প্রবাস মেলা ডেস্ক: প্রাজ্ঞ এক টগবগে তরুণ গোলাম সারোয়ার ষাট বছরে পদার্পণ করেছেন। তিনি একাধারে একজন সফল আবৃত্তি ও নাট্যনির্দেশক, সুঅভিনেতা ও আবৃত্তিশিল্পী, একজন দক্ষ সংগঠক ও উচ্চারণ প্রশিক্ষক। সর্বোপরি তিনি একজন সার্বক্ষণিক সংস্কৃতি কর্মী। ১৬ জুলাই ২০১৯ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘শুভ ষষ্টি গোলাম সারোয়ার’ শিরোনামে জন্মোৎসবের আয়োজন করে কণ্ঠশীলন।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী গোলাম সারোয়ার আবৃত্তি করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ‘পুরস্কার’, ছোটগল্প ‘অসম্ভব কথা’ ও ‘গান্ধারীর আবেদন’। তাঁর আবৃত্তি নিশ্চয়ই নতুন প্রজন্মের আবৃত্তিকর্মীদের পথচলার সঠিক নির্দেশনা দিতে সক্ষম হবে। এরপর তাঁকে নিয়ে একটি জীবনচিত্র প্রদর্শন করা হয়। জীবনচিত্রে সংস্কৃতিঅঙ্গনের বিশিষ্টজন তাদের অভিমত ব্যক্ত করেন।
আবৃত্তি এবং নাট্যশিল্পীদের অতিপরিচিত ও প্রয়োজনীয় নাম গোলাম সারোয়ার। শুদ্ধ উচ্চারণ, শুদ্ধ বচন বর্তমানকালে তরুণ প্রজন্মের অহংকার। মনের ভাব প্রকাশের পাশাপাশি নিজ ব্যক্তিত্ব তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম হলো ভাষা। ভাষার শুদ্ধতা-কুলীনতা, প্রয়োগ ও উপস্থাপনা শুধু ভাষার শ্রেষ্ঠত্বকেই তুলে ধরে না ব্যক্তি মানুষকে অপরূপ সুন্দর এবং মর্যাদাবান করে তোলে। গোলাম সারোয়ার দিনে দিনে, কালে কালে হয়ে উঠেছেন একজন ভাষাবিদ, উচ্চারণবিদ, আবৃত্তিশিল্পী, উচ্চারণ প্রশিক্ষক, নাট্যনির্দেশক সর্বোপরি একজন সংস্কৃতিমান ব্যক্তি হিসেবে।
গোলাম সারোয়ারের মত হল ‘জীবনটা যতটুকুই হোক, কাজটা হল না কিছুই’।
নিজের সংগঠন কণ্ঠশীলন ছাড়াও দেশব্যাপী শতাধিক আবৃত্তি ও নাট্যসংগঠনে প্রশিক্ষক হিসেবে যুক্ত গোলাম সারোয়ার। সংস্কৃতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শৈল্পিক কর্মশালার প্রশিক্ষক হিসেবে নিজের মর্যাদা ও অবস্থানকে অপরিহার্য করে তুলেছেন। এছাড়াও নির্দেশক হিসেবে প্রায় দশের অধিক আবৃত্তি প্রযোজনা এবং মঞ্চনাটকের নির্দেশনা দিয়ে সুধী এবং বিজ্ঞমহলে প্রশংসিত হয়েছেন।
তিনি যেমন অন্যের নির্দেশিত নাটকে ও আবৃত্তি প্রযোজনায় অংশগ্রহণ করেছেন তেমনি তাঁর নির্দেশিত নাটক ও আবৃত্তি প্রযোজনায় যুক্ত করেছেন সকলকে। আবৃত্তি ও নাট্যাঙ্গনে প্রায় চার দশকের পথচলায় অসংখ্য আবৃত্তি ও নাট্যশিল্পীর গুরু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন গোলাম সারোয়ার। কিন্তু কখনো গুরুর ভাব দেখানোর প্রবণতা দেখা যায়নি তাঁর মধ্যে। তাইতো গোলাম সারোয়ার মধ্যমণি হয়ে উঠেছেন সকলের কাছে।