প্রবাস মেলা ডেস্ক: জি-৭ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে রসিকতার ছলে ‘আমিই বস’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ প্রচেষ্টার প্রতি তার অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। জি-৭ নেতারা ইউক্রেনের প্রতি নতুন করে সমর্থন জানিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার অঙ্গীকার করেছেন।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-ব্যাঁ শহরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও তার মিত্ররা ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে এবং মস্কো শান্তি আলোচনার শর্ত নির্ধারণের অবস্থানে নেই। খবর রয়টার্সের।
সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় কিয়েভের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধে রাশিয়ার সেনা হতাহতের সংখ্যা ইউক্রেনের চেয়ে বেশি এবং রাশিয়াই এ সংঘাতের ‘আক্রমণকারী পক্ষ’।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গিতে ‘বাস্তব পরিবর্তন’ দেখা যাচ্ছে। ইউরোপের আরও কয়েকজন নেতা একই ধরনের মন্তব্য করেছেন।
গত বছর কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ইউক্রেন নিয়ে কোনো যৌথ অবস্থান গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার ভার্সাই প্রাসাদে আয়োজিত নৈশভোজের আগে ম্যাক্রোঁ ও ট্রাম্প উভয়েই সম্মেলনকে সফল বলে উল্লেখ করেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়াকে শান্তি আলোচনায় বাধ্য করতে হলে ট্রাম্পের দৃঢ় অবস্থান প্রয়োজন, যা এখনও অনিশ্চিত।
জি-৭ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া প্রাথমিক শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং এর বাস্তবায়নে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এতে তাদের ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি।
ইউরোপীয় কূটনীতিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, মার্কিন আলোচক দল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা চূড়ান্ত নয়। প্রয়োজন হলে তিনি আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন।
ট্রাম্প বলেন, যদি আমি পছন্দ না করি, যদি তারা ঠিকমতো আচরণ না করে, তাহলে আমরা আবারও বোমা হামলায় ফিরে যাব।
সম্মেলনে জি-৭ নেতারা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ লক্ষ্যে মজুত নীতিতে সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) ভূমিকা বাড়িয়ে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমা দেশগুলো প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে।
জি-৭ নেতারা মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে আলোচনা করেন। এতে ওপেনএআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্যাম অল্টম্যান এবং অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই অংশ নেন।
আলোচনায় এআই বট ও এজেন্টের দায়বদ্ধতা এবং প্রযুক্তিটি কীভাবে সত্য ও মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করছে, সে বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।