প্রবাস মেলা ডেস্কঃ কথাশিল্পী ও কবি নূর কামরুন নাহারের আজ জন্মদিন। ১৯৭১ সালের ১০ মার্চ তিনি ঢাকার জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উলুকান্দি গ্রামে। পিতা এ,টি,এম,শরফুজ্জামান মাতা মরহুম কানিজ নূরজাহান বেগম বাবা এবং মা দুজনেই লিখতেন এবং দুজনেই সাহিত্য ও শিল্পমনা।
নূর কামরুন নাহার টিকাটুলির কামরুননেচ্ছা সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় হতে এস এস সি, সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ হতে এইচ এস সি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় এম.এ পাশ করেন ।
১৯৯৬ সালে তিনি বি আই ডব্লিউ টিএ-তে সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন এবং দীর্ঘ দিন জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত থাকেন। ২০০৯ সালে তিনি ডিপিডিসিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে তিনি ডিজিএম পদে কর্মরত আছেন। স্কুল জীবন থেকে। নিয়মিত লেখালেখি করেন বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়।
জেন্ডার ইস্যু তার পছন্দের বিষয় হলেও প্রকৃত অনুরাগ সাহিত্যে। জীবনকে দেখেছেন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে। মানব মনের জটিল মনস্তত্ব, জীবনের বিচিত্র বর্ণিল রূপ, সমাজ বাস্তবতা ও বিভঙ্গতা, শ্রেণি সংগ্রাম, বেঁচে থাকার অর্ন্তলীন বেদনা ও অর্ন্তগূঢ় রহস্য, নারী-পুরুষের বহুমাত্রিক-বহুবিচিত্র সম্পর্ক আর নিরন্তর সংগ্রামের মাঝে স্বপ্ন দেখা মানুৃষের গল্প তার লেখার প্রধান উপজীব্য। নূর কামরুন নাহারের লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তার লেখাগুলোয় বাস্তব জীবনের ছবি, মাটির কাছাকাছি মানুষ, ওপর তলার মানুষ অথবা শ্রেণি ভেঙ্গে শ্রেণি গড়ার স্বপ্নে বিভোর মানুষ উঠে আসে অবিকৃত ও অবিকল শুদ্ধতায় । তার গল্পগুলো অবিশ্বাস্য ভাবে জীবনকে তুলে ধরেছে নিখুঁত তুলির আঁচড়ে।
শহরের জীবনের পাশাপাশি তিনি গ্রামীণ জীবনের দুঃখ-বেদনা, বঞ্চনা পরিবর্তিত জীবন, প্রাপ্তি- প্রত্যাশার ছবিও একেছিন অত্যন্ত জীবন ঘনিষ্টভাবে। তার কলামগুলোয় নারী ক্ষমতায়ন,, নারীর মানবিক জীবন, শিক্ষা পরিবেশ এবং সাম্প্রতিক বিষয়গুলোর নিরিক্ষা এবং বিশ্লেষণ থাকে।
২০০৫ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস গ্রন্থ ‘জলরঙে আঁকা’, ২০০৭ সালে কবিতার বই ‘তোমার ভাগ চাই’, ২০০৯ সালে উপন্যাস ‘একা’ ও ২০১০-এ উপন্যাস ‘আলো’, ‘নারী ক্ষমতায়ন স্বপ্ন ও বাস্তবতা’ এবং ২০১১-এ গল্প গ্রন্থ ‘গুচ্ছগল্প’ ২০১২ তে গল্পগ্রন্থ ’শিস দেয়া রাত’, ২০১৩ তে প্রকাশিত হয় উপন্যাস বিকেলের চিল, ২০১৪ তে গল্পগ্রন্থ মৃত্যু ও একটি সকাল, ২০১৫ তে বৃক্ষ ও প্রেমিকের গল্প, গল্পগ্রন্থ , ২০১৬ তে কবিতার বই জলের শরীর এবং ২০১৮ এর বইমেলায় তার আজ রাতে বৃষ্টি হবে গল্পগ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে। এছাড়া যৌথ গ্রন্থ ‘কবিতায় কবি ছয়’ ও অবাধ্য বেনোজল প্রকাশিত হয়েছে। সম্পাদিত গ্রন্থ জলের গল্প : Stories of Water, ২০১৯ সালে দিল্লী থেকে তার গল্পের অনুবাদ A Death and A Morning এবং Whistling Night প্রকাশিত হয়েছে।
সাহিত্য কমের্র স্বীকৃতি স্বরুপ পেয়েছেন অন্যন্যা গোষ্ঠি সাহিত্য পুরষ্কার ২০০৯, স্বাধীনতা সংসদ সন্মাননা স্মারক ২০১০, আর্ন্তজাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস বাক্ষ্রণবাড়িয়া টিআইবি বিশেষ সন্মাননা স্মারক,২০১১ , বিসিডি মডেল স্কুল হিজলা শিক্ষা সেমিনার বিশেষ সন্মাননা স্মারক,২০১০ , সাপ্তাহিক বজ্রকন্ঠ সন্মাননা ২০১২ , দাগ সাহিত্য পুরষ্কার ২০১৯।
নূর কামরুন নাহার একজন সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব। ১৯৯৬ সাল থেকে যুক্ত আছেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতির সাথে। সমিতির প্রকাশনা সম্পাদক, জনসংযোগ কর্মকর্তা সমিতির যুগ্মসম্পাদক এছাড়া তিনি বাংলা কবিতার বাঁক বদলের সংগঠন ম্যাজিক লন্ঠনের একজন সম্পাদক। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সংগঠন একাত্তরের যাত্রীর যুগ্ম সম্পাদক। বিআইডব্লিউটিএ অফিসার সমিতির নির্বাচিত নির্বাহী সদস্য ছিলেন, ছিলেন কথাসাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধের গল্প উৎসবের যুগ্ম আহবায়ক।
ব্যক্তি জীবনে তিনি বিবাহিতা স্বামী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সোনালী ব্যাংকে ডিজিএম হিসেবে কর্মরত। তার দুই ছেলে জাহিদ নূর ও জুবায়ের নূর। বই তার প্রিয় বন্ধু এবং সঙ্গী। ভালোবাসেন গান শুনতে ও কবিতা আবৃত্তি করতে । প্রকৃতি আর বৃষ্টির শব্দ তার খুব প্রিয়। মেঘনা পাড়ের মানুষ আর মেঘনার বুকে তিনি খুঁজে পান অপার্থিব আনন্দ। মানুষের বৈচিত্র্য ও সংগ্রাম তাকে মুগ্ধ আর আবিষ্ট করে রাখে জীবনের প্রতি।
জীবনের প্রতি সবসময় তিনি ইতিবাচক দৃষ্টি রাখেন। তার প্রিয় উক্তি laugh and world laughs with you, weep and you weep alone.