প্রবাস মেলা ডেস্ক: শিমুল পারভীন একাধারে লেখক, আবৃত্তিশিল্পী, সংগীতশিল্পী, চিত্রশিল্পী ও সমাজসেবী। এবারের বইমেলা উপলক্ষ্যে কবি শিমুল পারভীনের দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বই দুটি হলো কাব্য গ্রন্থ ‘প্রেম দিলেনা প্রাণে’ ও উপন্যাস ‘ফেরার সময় হলো’। বইমেলায় ৩৮০, ৩৮১নং স্টল মাত্রা প্রকাশনী তে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া লিটল ম্যাগ চত্বরে প্রতিধ্বনি ৯৮ নং স্টলেও পাওয়া যাবে তার নতুন দুটি বই সহ তার লেখা আরও ৫০টি অন্যান্য বই।
লেখালেখি জগতে কবি শিমুল পারভীনের পদচারণা বহু আগে থেকেই। তার লেখায় তিনি দেখান কিভাবে জগৎ এবং জীবন সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে হবে। এবারের বইমেলায় তার নতুন কাব্যগ্রন্থ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কবিতা কখনো কখনো অলঙ্কৃত অপরূপ সুসজ্জিত মনোরম সাজে সেজে থাকে, আবার কখনো থাকে নিরাভরণ। উপযুক্ত শব্দ চয়নের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠ বাক্য বিন্যাসই কাব্যের অলঙ্কার। সামান্যকে খুব সাধারণ শব্দ দিয়ে অসামান্য করে তুলে ছন্দময়োতার দিকে একাত্ম হয়ে অনায়াসে জীবনের অঘোম চরাই থেকে অনন্তের উৎরাই অবধি পাঠককে হাতে ধরে নিয়ে যেতে পারেন একজন কবি। হালকা ভাবে কবি গভীর কথাটি বলে দিতে পারেন অনায়াসে। যেমন, কিছু মানুষের হয়না কোন বিকল্প, এতে সত্যি কোন সুখ থাকেনা। আবার কখনো কবির মনে হয় বিজ্ঞপন নিষিদ্ধ জেনেও বুকের বিলবোর্ডে লিখি তার নাম আবার কখনো কবি বলেন -আমি বেঁচে থাকি দু এক মুঠো স্বপ্ন নিয়ে…এমনই সব উপমা দিয়ে লেখা হয়েছে ‘প্রেম দিলে না প্রাণে’ কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতা। কবিতাগুলোর মৃদু কিন্তু কঠিন উচ্চারণ সবাইকে ছুঁয়ে যাবে, আচ্ছন্ন করে রাখবে কিছু সময় এমন আশা রাখছি’।
অন্যদিকে উপন্যাসটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মধ্যবয়সী দুজন নিঃসঙ্গ মানুষ একটু উষ্ণতার জন্য, কাছে থাকার জন্য কাঙাল হলেও এই ক্ষণীক মধুর আনন্দের তীব্র সুখ ও জ্বালাভরা সম্পর্কের কোন পরিণতি নেই তা জানতো ওরা। জানতো জীবনের সব নাটক তো মঞ্চস্হ হয়না, মহড়া চলে জীবন ভর। তবু পথ চেয়ে থাকার মধ্যে, অপেক্ষার মধ্যে দারুণ একটা সুখ থাকে। যেন পথ চাওয়াতেই যত আনন্দ…এমন-ই অনুভূতি নিয়ে লেখা ‘ফেরার সময় হলো।’
উল্লেখ্য, কবি শিমুল পারভীনের জন্ম সাতক্ষীরা জেলার সুলতানপুরে। তিনি খুলনা বি.এল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এস.এস, নর্থ আমেরিকান ইউনিভার্সিটি থেকে এম.বি.এ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.বি ও অতীস দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.এম ডিগ্রী লাভ করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। এছাড়া তিনি বাচিক কলা (বাফা)’র প্রশিক্ষক, চ্যানেল আই এর উপস্থাপক এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের তালিকাভুক্ত আবৃত্তিশিল্পী।
তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যের সংখ্যা ৫২ টি। এরমধ্যে একক ৫০ ও যৌথ ২টি। দুই বাংলা থেকে প্রকাশিত উল্লেযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো আবৃত্তির কলাকৌশল, বিষণ্ণ গোধূলি, উৎসারিত আলো, লাল সবুজে বঙ্গবন্ধু (শতবর্ষে শত কবিতা), এপার ওপার, এতটুকু চায়নি বালিকা, শেষ বিকেলের আলো, বেলা যে যায়, গল্পে গল্পে সক্রেটিস প্লেটো, এ্যারিস্টটল৷
এছাড়া ‘অন্ধকারের উৎস হতে’, ‘আমিই সেই মেয়ে’ ও ‘আমার পরিচয়’ নামে তিনটা আবৃত্তি এ্যালবাম রয়েছে।
তিনি রবীন্দ্রনাথ সার্ধশত জন্মবার্ষিকী পদক, জসিমউদ্দীন পদক, সত্যজিৎ রায় পদক, পাঠশালা পদক, জীবনানন্দ দাশ পদক ২০১৯ (মেদিনীপুর), what’s on best writer award 2015, মাদার তেরেসা পদক ২০১৬, তুলনাহীনা নারী ২০১৭, আন্তজার্তিক মাতৃভাষা পদক ২০১৮, নারী লেখক গ্রন্থপদক ২০১৮, নারী লেখক কাব্যগ্রন্থ পদক ২০১৯, ২০২১ লাভ করেন।
এছাড়া তিনি কয়েকটি সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন। তার মধ্যে রয়েছে- লিউট্যান্যান্ট গর্ভনর ২০২১-২২ রোটারী ডিস্ট্রক্ট ৩২৮১, পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারী ক্লাব অব ঢাকা ফোর্ট; প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রতিধ্বনি, ঢাকা; সাংস্কৃতিক সম্পাদক বাংলাদেশ নারী লেখক সোসাইটি ও সাংস্কৃতিক পরিষদ।