রানা সাত্তা, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: পাহাড়ে বন রোধন, আর গাছ পালা কেটে ফেলায় খাবার সংকটে পরেছে হাতিসহ অন্যান্য বন্য প্রানীরা। তাদের অভয়ারণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা এখন প্রবেশ করছে লোকালয়ে। নষ্ট করছে প্রান্তিক কৃষকদের আবাদি ফসল মাঠ, অন্যদিকে প্রাণ হারাচ্ছেন হাতির কবলে পরে নিরীহ মানুষজন।
প্রায়ই হাতি মানুষ মারছে আনোয়ারায়। সন্ধ্যা হলেই গ্রামের মানুষ আতংকে সময় পার করতে হয়। তেমনি ১১অক্টোবর ২০২১, সোমবার সকালে আনোয়ারায় উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গুয়াপঞ্চক এলাকা সড়কের পাশে ফসলি জমি থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের আনুমানিক বয়স ৬৫ বছর।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সোলাইমান। তিনি বলেন, এলাকায় রাতে দেয়াং পাহাড় থেকে হাতি নেমে মানুষের বসতঘর ও ফসলি জমির ক্ষতি করেছে। সকালে এলাকাবাসী রাস্তার পাশে ক্ষেতে অজ্ঞাত একজন লোকের মরদেহ দেখতে পেয়ে তাকে খবর দেয়। ওই ব্যক্তি মানসিক প্রতিবন্ধী। তাকে কিছু দিন ধরে এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর ধারণা— হাতির আক্রমণে লোকটি মারা গেছে।
এলাকাবাসীরা জানান, কিছুদিন পর পর এই হাতিগুলি গ্রামে ঢুকে মানুষ মারছে, আর গরীবের ফসলগুলি নষ্ট করছে। কিন্তু এ বিষয়ে বন-বিভাগের তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখা না যাওয়ায় হতাশ। বন্য পশুপাখির দায়-দায়িত্ব কার? আমরা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা চাষাবাদ করে পরিবার নিয়ে ভালো থাকতে চাই।
এই ব্যাপারে বন বিভাগের হাতি তাড়ানোর প্রকল্পের ৫নং ওয়ার্ডের দলনেতা আবু বক্কর জানান, এই হাতিগুলো তার ঘরেও তাণ্ডব চালিয়েছে এবং তাকে আহত করেছে। হাতিগুলো প্রতিদিন খাবারের খোঁজে লোকালয়ে নেমে আসে আর শেষ রাতে কারও না কারও ক্ষতি করে চলে যায় পাহাড়ে। তবে হাতিগুলি তাড়ানো ব্যবস্থা করে অদুরে পাহাড়ে দিয়ে আসার ব্যাপারে তাদের পরিকল্পনার তেমন কিছু আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি তার উত্তর দিতে পারেনি।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার পুলিশ জানান, সকালে রাস্তার পাশে লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। তবে এখনও লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, হাতির আক্রমণে তার মৃত্যু হয়েছে। আলামত গুলি হাতির তান্ডবের সাথে মিল রয়েছে।