শরীফ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, কুয়েত থেকে: কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কুয়েতের বিভিন্ন এলাকায় হানা দিয়ে আকামাবিহীন শ্রমিকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা পুলিশী হেফাজতে রয়েছে। প্রবাসীরা মনে করেন কোম্পানিগুলো যদি যথারীতি শ্রমিকদের আকামা নবায়ন করেন তাহলে কোন শ্রমিকই অবৈধ হবেনা। কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম আরব টাইমস জানায় যে, কুয়েতে প্রায় দেড় লাখ অবৈধ শ্রমিক রয়েছেন যাদের অনেকেরই আকামা নেই। এদের অনেকেই আবার মালিকের বাসা থেকে পলায়ন বা কোম্পানি থেকে পলায়ন করে নিখোঁজ রয়েছেন।

প্রতিদিনই কুয়েতের কোন না কোন এলাকায় প্রশাসন হানা দিয়ে এই সকল অবৈধ শ্রমিকদের গ্রেফতার করছেন। এরই মধ্যে কুয়েতের বেনিদ আল গার এলাকায় ৯৬ জন, আহমেদী ও মোবারক আল কবীর এলাকায় গত দুইদিনে ৪৩০ জন ও হাওয়াল্লী এলাকা থেকে ১১৮ জন, জাহারায় ১৫০ জন অবৈধ শ্রমিককে পুলিশ গ্রেফতার করে।
উল্লেখ থাকে যে, করোনা মহামারী সময় গত এপ্রিল মাস থেকে এই সকল অবৈধ শ্রমিকদের জরিমানা প্রদান করে আকামা নবায়ন বা দেশে চলে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও এই সকল শ্রমিকরা কুয়েত ছেড়ে যায়নি। সাধারণ প্রবাসীরা মনে করেন কোন শ্রমিকই অবৈধ হয়ে কুয়েত প্রবেশ করেনা, কোম্পানিগুলোর স্বেচ্ছাচারিতার কারনেই আকামা নবায়ন না করার কারণে এ সকল শ্রমিকরা অবৈধ হয়ে যান তারা মনে করেন। কোম্পানি ও মালিকপক্ষ যদি শ্রমিকদের আকামা নবায়ন করেন তাহলে আর কোন শ্রমিক অবৈধ হবেনা। কুয়েতে প্রায় ৩ লক্ষ বাংলাদেশি রয়েছেন, এর মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার আকামাবিহীন অবৈধ শ্রমিক রয়েছেন। তাদের ব্যাপারে কুটনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে যেন আকামা সমস্যা সমাধানে সরকার ও দূতাবাস ভূমিকা গ্রহণ করেন এটাই প্রবাসীদের প্রাণের দাবী।