প্রবাস মেলা ডেস্ক: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইসলামাবাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উপেক্ষা না করার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের কূটনীতিক হোসেন হাক্কানি। তালেবান ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে ইসলামাবাদের সহায়তা বন্ধ করতেও তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছন হাক্কানি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সাবেক কূটনীতিক হাক্কানি প্রশ্ন করেন, কয়েক বছর ধরে আফগান যুদ্ধের পেছনে যে পাকিস্তান অবস্থান করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কেন এই সত্যকে উপেক্ষা করে?
কূটনীতিক হাক্কানি যুক্তরাষ্ট্র ও শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইসলামাবাদ এই অঞ্চলে সব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে আসছে।’ হাক্কানির মতে, পাকিস্তান এখনো তালেবানকে সমর্থন করছে এবং ভারতকে দুর্বল করতে ১০টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করেছে।
প্রবীণ পাকিস্তানি এই কূটনীতিক বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতির একটি স্পষ্ট অংশ এবং তার শক্তিশালী সেনাবাহিনী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা ও প্রশিক্ষণের উপর পুরোপুরি মনোনিবেশ করেছে।’
সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে পাকিস্তানের সহায়তা বন্ধ না করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন হাক্কানি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যদি পরিস্থিতি এখনকার মতো চলতে থাকে, তবে আফগানিস্তান শিগগিরিই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে যুক্ত হবে।’
হাক্কানি আরও বলেন, ‘তালেবান আল-কায়েদা সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত। এ বিষয়টি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও জানে।’ যুক্তরাষ্ট্রকে এই পরিস্থিতির অবসানের জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান পাকিস্তানি এই কূটনীতিক।
আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি নেতৃত্বাধীন সরকার তালেবানকে সহায়তা করার জন্য পাকিস্তানের ব্যাপক সমালোচনা করেছে। তবে পাকিস্তান এই অভিযাগ অস্বীকার করেছে। সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করার জন্য ঘানি পাকিস্তানকে কটাক্ষ করেছিলেন। আশরাফ ঘানি বলেন, ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে গত মাসে ১০ হাজারের বেশি ‘জিহাদি’ যোদ্ধা আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছে।’
আফগান প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান সরকার চলমান শান্তি আলোচনায় তালেবানকে রাজি করাতে ব্যর্থ হয়েছে। আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর আগে বলেছিল, তালেবানরা আফগানিস্তানে তাদের সহিংস অভিযান জোরদার করেছে। তাদের হামলায় পাকিস্তানের কুখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা-ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) এর সমর্থন ছিল।’
পাকিস্তান সামরিক বাহিনী তালেবানকে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে প্রশিক্ষণ শিবির স্থাপন এবং নিয়োগের ক্ষেত্রেও সহায়তা করছে। যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, তার দেশ তালেবানদের কর্মকাণ্ডের জন্য ‘দায়ী’ নয়।
জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশ ও জঙ্গি গোষ্ঠী আফগানিস্তানে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ইউএন অ্যানালাইটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাঙ্কশন মনিটরিং টিম’র ২৮তম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) তালেবানদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে। টিটিপির ৬ হাজার সন্ত্রাসী আফগান সীমান্তে অবস্থান করছে।