রফিক আহমদ খান, কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া:
আজ ১০ জুলাই বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী তুন ড. মাহাথির মোহাম্মদের ৯৪ তম শুভ জন্মদিন। ১৯২৫ সালের এই দিনে তিনি মালয়েশিয়ার কেডাহ প্রদেশের আলোর সেতার কামপুং (গ্রাম) সেবেরাং এ জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৮১ সালে ৫৬ বছর বয়সে প্রথমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন। তখন কয়েক মেয়াদে টানা ২২ বছর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। তাঁর আমলেই মালয়েশিয়া ব্যাপক উন্নতি সাধন করে। বিশ্বে উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিতি পায় মালয়েশিয়া। পৃথিবীর সর্বোচ্চ পেট্রোনাস টু-ইন টাওয়ার, কেএল টাওয়ার, এলআরটি (মেট্রোরেল), মনোরেল সহ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা তাঁর আমলেই নির্মাণ করা হয়।
২০০৩ সালের অক্টোবরে তাঁর ডেপুটি আবদুল্লাহ আহমদ বাদাবির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে স্বেচ্ছায় প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে রাজনীতি থেকে অবসর নেন। পনের বছর পর অবসর ভেঙে দেশের জন্য তিনি আবারো রাজনীতিতে নামেন। রাজনীতিতে নেমেই বাজিমাত করেন মাহাথির। তাঁর পুরানো দল নয়, নতুন দল ও নতুন জোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেন মাহাথির। সারাবিশ্বকে অবাক করে দিয়ে ২০১৮ সালের ৯ মে মালয়েশিয়ার ১৪ তম সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে তিনি আবারো মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তিনি বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বয়স্ক প্রধানমন্ত্রী।

বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার অর্থনীতিকে পুনরায় শক্তিশালী করার জন্য পরিশ্রম করে যাচ্ছেন এই চুরানব্বই বছর বয়সে। গতকাল ৯ জুলাই থেকে মালয়েশিয়ার স্যোশাল মিডিয়ায় দেশটির তরুণ সমাজ শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানাচ্ছেন ড. মাহাথির মোহাম্মদকে।
তিনি নতুন করে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মালয়েশিয়ার তরুণ সমাজকে কর্মঠ হওয়ার আহবান জানিয়ে আসছেন বার বার। গতকালও এক সভায় তিনি ওই একই আহবান জানান। মালয়েশিয়ান তরুণদের অলসতার কারণে দেশটিতে বিদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে বলে বিভিন্ন সময়ে মন্তব্য করেন তিনি। মালায়ূ তরুণদের অলসতায় বাংলাদেশি তরুণেরা মালয়েশিয়ায় বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন এবং সুন্দরী মালয় তরুণীদের বিয়ে করছেন বলেও গত বছর এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন ড. মাহাথির।
মাহাথির যখন অবসর জীবনযাপন করছিলেন তখন নিয়মিত জুমার নামায পড়তেন মালয়েশিয়ার জাতীয় মসজিদ ‘মসজিদ নেগারায়’। তখন নামায শেষে বাংলাদেশি সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা ছবি তুলতেন মাহাথিরের সাথে। কখনো বিরক্তবোধ করেন নি তিনি। সানন্দেই আগ্রহীদের তাঁর সাথে ছবি তোলার সুযোগ দিতেন তিনি। তখন কেউ-ই ভাবেন নি তিনি (মাহাথির) আবারো মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হবেন। সবাইকে অবাক করে দিয়ে তিনি তিরানব্বই বছর বয়সে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হলেন। শুভ কামনা ড. মাহাথিরের জন্য।