ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য-এর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সিডনির ওয়েন্টওয়ার্থভিল এলাকায় অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ আয়োজনের সূচনা করে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর পূজা অ্যান্ড কালচার। স্থানীয় বাঙালি সমাজের অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে রেডগাম ফাংশন সেন্টার।
অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন মিতা দে। বাংলা স্কুলের পরিবেশনা পরিচালনা করেন শর্মিষ্ঠা চৌধুরী এবং পুরো অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন সংস্থার জনসংযোগ সচিব পায়েল রায়।
সন্ধ্যার শুরুতেই বাংলা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের আবৃত্তি, গান ও নৃত্য পরিবেশনা দর্শকদের মন কেড়ে নেয়। এসব পরিবেশনার পেছনে ছিল বাংলা স্কুলের শিক্ষক শর্মিষ্ঠা চৌধুরী লারিনা নুপূর রোজারিও শ্রেয়সী দাস প্রঞ্জা বর্ণিকা কর্মকার ও প্রধান শিক্ষিকা পায়েল রায়-এর নিরলস পরিশ্রম। শিশুদের প্রাণবন্ত ও সাবলীল পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে দেয় এক হৃদয়গ্রাহী রূপ।
এরপর মঞ্চস্থ হয় গীতি-আলেখ্য যেখানে সংগীত আবৃত্তি ও সংলাপ-এর মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়। এতে অংশ নেন সংস্থার সদস্য এবং বাংলা স্কুলের অভিভাবকবৃন্দ।
এরপর উপস্থাপিত হয় দুটি নাট্য-পরিবেশনা। প্রথমে মঞ্চস্থ হয় চণ্ডালিকা নির্দেশনায় শ্রেয়সী দাস ও প্রঞ্জা বর্ণিকা কর্মকার। নাট্যরূপে কাহিনির আবেগময় উপস্থাপন দর্শকদের মুগ্ধ করে। এরপর পরিবেশিত হয় শাস্তি যা নির্দেশনা দেন সৌমিক দাস। সামাজিক বার্তাপ্রবণ এই নাটক দর্শক হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে।
সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন শিল্পী অমিয়া মতিন যিনি ধারাবাহিক নজরুল সংগীত পরিবেশন করে শ্রোতাদের হৃদয় জয় করেন।
আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই সাংস্কৃতিক সমারোহের সমাপ্তি ঘটে সভাপতি অশোক রায় এবং সাধারণ সম্পাদক তপস কুমার দে-র বক্তব্যের মাধ্যমে। তাঁরা সকল অংশগ্রহণকারী শিক্ষক শিক্ষার্থী অভিভাবক ও শিল্পী-দের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সাফল্য নিশ্চিত করেন।
এই অনুষ্ঠান কেবল তিন গুণী কবির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নয় বরং প্রবাসে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিক প্রকাশও বটে।