ওয়াসীম আকরাম, বৈরুত, লেবানন প্রতিনিধি: লেবাননের চলমান সরকার বিরোধী নাগরিক আন্দোলনে অতি উৎসাহী কিছু বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে ভবিষ্যতে বাংলাদেশিদের উপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন বাংলাদেশ দূতাবাস। গত বৃহস্পতিবার থেকে লেবাননে সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। কয়েকজন বাংলাদেশিকে লেবাননের পতাকা হাতে আন্দোলনে শরিক হতে দেখা যায় এবং লেবাননের মিডিয়াতে মন্তব্য করতে দেখা যায়। যা সকলের নজরে আসে। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ দূতাবাসের ভেরিফাই ফেসবুক পেজে এই ঘটনার উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি স্টাটাস দেন। স্টাটাসে বলেন, অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে কিছু সংখ্যক অতি উৎসাহী প্রবাসী বাংলাদেশি লেবাননের চলমান সরকার বিরোধী নাগরিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছে। কেবল অংশগ্রহণই নয়, তারা বিভিন্ন টেলিভিশনে এ বিষয়ে বক্তব্য রাখছেন। একজন বিদেশি কর্মী হিসেবে এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। এতে লেবাননে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের উপর বিরূপ প্রভাবসহ ভবিষ্যতে অবৈধদের বৈধকরণ প্রক্রিয়ার উপর প্রচন্ড নেতিবাচক প্রভাব পরতে পারে।
এমতাবস্থায় লেবাননে বসবাসরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশিদের এ ধরনের অনাকাংখীত কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। আর এ নিয়ে বাংলাদেশিদের মাঝে চলছে আলোচনা সমালোচনা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় যার যার অবস্থান থেকে লেবানিজদের আন্দোলনে বাংলাদেশীদের অংশগ্রহল করার নিন্দা জানিয়েছেন অনেকে।
প্রসঙ্গত- লেবানন সাম্প্রতিক নানা সমস্যার প্রতিবাদে রাজধানী বৈরুতের রাস্তায় নেমে এসেছে বিপুল সংখ্যক জনতা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখনও অব্যাহত রয়েছে।
দেশে জরুরি অর্থনৈতিক অবস্থা ঘোষণা, মার্কিন ডলারের সংকট, বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে দ্রব্যপণ্যের উপর মূল্য সংযোজন কর বৃদ্ধি, হোয়াটসঅ্যাপের কল রেট বৃদ্ধি ও বর্তমান সরকারের দুর্নীতির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভে সামিল হয়েছে হাজার হাজার জনগণ।
বিক্ষোভকারীরা বৈরুতের রিয়াদ আল-সোলহ চত্বরে অবস্থানরত হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। লেবাননের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা বাহিনীর (আইএসএফ) এক টুইট বার্তায় জানিয়েছে, বিক্ষোভে তাদের চল্লিশ সদস্য আহত হয়েছে। আইএসএফ বিক্ষোভকারীদের ‘বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা’ থেকে নিবৃত্ত থাকারও আহ্বান জানিয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বলছে, তারা মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরও বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করবে। এই ঘোষণাগুলো দিনের বেলা লেবাননের সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার পর সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং রাতারাতি তা বড় ধরনের বিক্ষোভে রূপ নেয়। বিক্ষোভ চলাকালে আইন শৃংখলা বাহিনী এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরেই বৃহস্পতিবার রাতে সরকার ভিওআইপি ট্যাক্স প্রস্তাব প্রত্যাহার করে লেবানন সরকার।
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, বাজেট অধিবেশনকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও ব্যবহার্য অনেক দ্রব্যের উপর কর আরোপ করছে সরকার। এমনকি হোয়াটঅ্যাপ ও ম্যাসেঞ্জার কলের উপরও কর আরোপ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে বৈরুতসহ পুরো লেবাননে বিক্ষোভ শুরু হয়। ছাত্র-জনতাসহ হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় ময়লার ড্রাম ফেলে ব্যারিকেড দেয় এবং টায়ার পোড়ায়। বিক্ষোভকারীদের টায়ার জ্বালানো আর নিরাপত্তা বাহিনীর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপে বহু মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বেসরকারি অফিসগুলো বন্ধ ছিল এবং ২০ অক্টোবর রোববার লেবানন বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদেরকে ” ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প” সেবা দেয়ার কথা ছিল সেটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়। বিভিন্ন দূতাবাস সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক এলে চালু করা হবে বলে জানা যায়।