রাসেল আহমেদ, প্যারিস, ফ্রান্স থেকে: ইউরোপের দেশ মাল্টায় বৈধ শ্রমবাজার এবং নিরাপদ আবাসন প্রসঙ্গে আয়েবার সংবাদ সম্মেলন। ইউরোপ সহ মাল্টায় নিরাপদ অভিবাসনের লক্ষ্যে ‘মিট দ্য প্রেস’ করেছে অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন আয়েবা। সংগঠনের সহ-সভাপতি ফখরুল আকম সেলিম এর সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব কাজী এনায়েত উল্লাহ।
জনাব ফখরুল আকম সেলিম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বিগত দিনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শ্রমিক প্রেরণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিলো কিন্তু কিছু অসাধু চক্রের অনৈতিক কার্যকলাপের ফলে সেই সুযোগগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি আর তাই মাল্টায় এখন দক্ষ শ্রমিক প্রেরণের যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা যেন কোনোভাবেই আবারো একই অসাধু চক্রের কারণে হাতছাড়া না হয়।
মহাসচিব তার বক্তব্যে বলেন, মানবচক্রের খপ্পরে পড়ে মালটায় যে ১৬৫ বাংলাদেশি জেল বন্দি রয়েছেন তাদের মুক্তির ব্যাপারেও আয়েবা উদ্যোগ নিয়েছে। মাল্টার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখ্যসচিব কেবিন মাহনে ও অন্যান্য উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে এ প্রসঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনার পর স্পষ্ট হয় যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব কারাবন্দিদের বাংলাদেশের নাগরিক হিসাবে স্বিকার করেছে এবং তাদের বাংলাদেশে ফেরত নেয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে। তারপরও আয়েবার নিয়োগপ্রাপ্ত প্রখ্যাত মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ আইনজীবি জনাব কালেয়ার পক্ষে মাল্টা সাংবিধানিকে আদালতে মামলা করে প্রতিটি কারাবন্দিকে মুক্ত করা সম্ভব ছিলো। তবে সেটা হতো একটা অনেক ব্যায়বহুল প্রক্রিয়া।

বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শ্রমিক আনার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রায় কুড়ি হাজারের অধিক দক্ষ শ্রমিক মাল্টায় আসার সুযোগ রয়েছে। ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, সুইপার, রেস্টুরেন্ট এবং ট্যুরিজম খাতে কাজ করতে সক্ষম এমন শ্রমিকের বিরাট চাহিদা রয়েছে মাল্টায়। তবে তাদের অবশ্যই ইংরেজী ভাষার ক্ষেত্রে যুক্তি সম্পন্ন দক্ষতা থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, মাল্টার সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন আয়েবাও চাইলে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শ্রমিক আনার ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারে। তবে আয়েবা যেহেতু একটি অলাভজনক সামাজিক প্রতিষ্ঠান, তাই তারা কোনও রকম এ ধরনের অর্থনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত হতে পারবেনা।
তবে কেউ যাতে মাল্টায় আসতে গিয়ে প্রতারণার শিকার না হন এবং সঠিক নিয়ম অনুযায়ী তারা মাল্টায় আসতে পারেন সেই লক্ষ্যে আয়েবা কাজ করে যাবে। মাল্টায় আসার এই সুযোগ নিতে পারে বাংলাদেশিরা।

যোগ্যতা প্রমাণের পর অনুসঙ্গীক ফাইল চার্জ এবং যাতায়ত ভাড়া হিসাবে সর্বোচ্চ দুই লক্ষ টাকা লাগতে পারে। এর বেশি টাকা দিয়ে আসার কোন কারন নাই। কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই চান না যে তাদের দেশে অযোগ্য লোকজন দালালদের বেশি টাকা দিয়ে এসে পরে অন্যান্য আরো উন্নত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলে যায়। এ বিষয়ে এবার মালটা সরকার খুবই কঠোর হবেন এবং সেই সঙ্গে ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোও এই বিষয়ে অনেক গুরুত্ব আরোপ করেছে। করোনা মহামারীর সঙ্গে না না অর্থনৈতিক বিপর্যয়, সামাজিক অসন্তোষ সেই সাথে বর্ণবাদি দলগুলোর উত্থান সবগুলো দেশেরই সরকার প্রধানদের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এ বিষয়ে কোনো পরামর্শ জানতে চাইলে যে কেউ আয়েবার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
মাল্টা এবং বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তার উন্নয়নেও আয়েবা তার ভূমিকা পালন করবে। দেশটিতে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি গঠনে অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ আসোসিয়েশন আয়েবা তার যোগ্য ভূমিকা পালন করবে।
মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আয়েবা এক্সিকিউটিভ শরীফ আল মমিন, এমদাদুল হক স্বপন এবং টি এম রেজা।