অসীম বিকাশ বড়ুয়া, সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিনিধি: বাংলাদেশি বৌদ্ধদের আসন্ন প্রবারণা উৎসবের নিরাপত্তা, হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, হত্যা, পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা ভাঙচুর সহ নানা ঘটনার প্রতিবাদে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ বাংলাদেশি বুড্ডিষ্টস (WFBB) এর উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী ভার্চুয়ালি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
১৭ অক্টোবর ২০২১, রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় সংগঠনের আহ্বায়ক ড. বসুমিত্র বড়ুয়ার (যুক্তরাষ্ট্র) সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সদস্য সচিব সুহাস বড়ুয়ার সঞ্চালনায় উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সিনিয়র সহ-সভাপতি, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্ৰধান, অধ্যাপক ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া এবং বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি, বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং দানবীর লায়ন আদর্শ কুমার বড়ুয়া (PMJF)। ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাধ্যমে একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী তাঁর গড়া অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে আসছে। এই সাম্প্রদায়িকতা দীর্ঘ দুই দশকে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে আমাদের জন্য এখন একটি অশনি সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাম্প্রদায়িক সমস্যা নিরসনে অত্যন্ত আন্তরিক বলে মনে করি এবং বৌদ্ধদের প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছেন, যা অতীতে কোন সরকার করেনি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিরোগ ও দীর্ঘায়ু জীবন কামনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার কারণে নেপালে ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা খরচ করে বাংলাদেশি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করা হচ্ছে। লায়ন আদর্শ কুমার বড়ুয়া বলেন, যে কোন ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বিধানে আমরা প্রশাসনের ডাকে সাড়া দিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে আসছি এবং যতদিন বেঁচে থাকব তা করবো।
সভাপতির বক্তব্যে ড. বসুমিত্র বড়ুয়া বলেন, পত্র-পত্রিকায় দেশের দুর্গাপূজা নিয়ে অনেক সহিংস ঘটনার খবর পাচ্ছি কিন্তু তাতেও স্বস্তি পাচ্ছিনা বিধায় দেশের বৌদ্ধ নেতাদের মুখ থেকে ঘটনাসমূহ গভীরভাবে জানতে চাই। তিনি মহাসংঘনায়ক বিশুদ্ধানন্দ মহাথের প্রতিষ্ঠিত একটি বৌদ্ধ বিহার ভূমি দস্যুদের দখল চক্রান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং তা রক্ষা করার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন। ডাব্লিউএফবিবি’র যুগ্ম আহবায়ক আশীষ বড়ুয়া বলেন, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন না ঘটলে সাম্প্রদায়িক ঘটনা চলতে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মত মুক্তবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের সংখ্যা অত্যন্ত কম বিধায় এই সমস্যা চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে যে সাম্প্রদায়িকতা ছিল তা আজও আমরা দেখছি। আশীষ বড়ুয়া বাংলাদেশের সকল বৌদ্ধ সংগঠনকে একটি সম্মেলনের মধ্যে একত্রিত হয়ে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় সমস্যা মোকাবেলার উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানান। তিনি প্রতিটি বৌদ্ধ এলাকায় নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য যৌথভাবে সেচ্ছাসেবক বা পর্যবেক্ষণ টিম গঠনের আহবান জানান।
ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অফ বাংলাদেশি বুড্ডিস্টস (WFBB) এর বক্তাবৃন্দ দুর্গাপূজায় হামলা, ইসকনের ধর্মীয় গুরুসহ হিন্দু নেতাদের হত্যা, ধর্ষণ ও ঘরবাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অগ্নি সংযোগ ও লুট-পাটের ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানান। তাঁরা সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলির মূল কারণ চিহ্নিত করার জন্য সরকার ও নেতৃবৃন্দকে আহবান জানান এবং মূল সমস্যা চিহ্নিত না হলে সমস্যার সমাধানও সম্ভব নয় বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বক্তাগণ সরকারের প্রতি বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের মানুষের নিরাপত্তার জন্য সুরক্ষা আইন করার জোর দাবি জানান।
সভায় সুইজারল্যান্ড থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক পলাশ বড়ুয়া, অর্থ বিষয়ক যুগ্ম সচিব অরুন জ্যোতি বড়ুয়া, যুগ্ম সদস্য সচিব সসীম গৌরী চরণ, আয়ারল্যান্ড থেকে যুগ্ম সদস্য সচিব দিলীপ কুমার বড়ুয়া, ফ্রান্স থেকে যুগ্ম আহবায়ক উদয়ন বড়ুয়া এবং যুগ্ম সদস্য সচিব তাপস বড়ুয়া রিপন, ইউনাইটেড আরব আমিরাত থেকে যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার আশিষ বড়ুয়া, বাংলাদেশ থেকে ডালিম বড়ুয়া, বোস্টন থেকে শিমুল বড়ুয়া, স্পেন থেকে বিপ্লব বড়ুয়া ও অজিত বড়ুয়া, ভারত থেকে সুমন বড়ুয়া, জাপান থেকে প্রতীক বড়ুয়া, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাংবাদিক অসীম বিকাশ বড়ুয়া ও রানা বড়ুয়া জীসাঙ, মালয়েশিয়া থেকে মং শিন মারমা, ফ্লোরিডা থেকে সংঘপ্রিয় বড়ুয়া সহ আরও অন্যান্য প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, দুষ্কৃতিকারীদের কোন ধর্ম নেই, এরা মানবতাবিরোধী দেশ ও দশের শত্রু। তারা আরো বলেন, প্রত্যেক ধর্মেই শান্তির কথা বলা হয়েছে। ফেসবুক বা সামাজিক মাধ্যমে কটু বাক্য, কমেন্ট-পোস্ট না করে একে অপরের প্রতি সৌহার্দ্য সম্প্রীতি বাড়াতে হবে। আমরা একই দেশের মানুষ, একে অপরের আত্মীয়। জগতে শত্রুতার দ্বারা শত্রুতার উপশম হয় না মিত্রতার দ্বারাই শত্রুতার উপশম হয়।