প্রবাস মেলা ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ লেগে যাওয়ায় ইউক্রেনে থাকা বাংলাদেশিদের পোল্যান্ডে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পোল্যান্ডে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, বৃহস্পতিবার পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা পুলিশ কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। কারণ, পোল্যান্ড ভ্রমণের জন্য ভিসা লাগবে। আমরা ইউক্রেনে থাকা বাংলাদেশিদের শিগগিরই ভিসা পাওয়ার কথা জানিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘যাদের পাসপোর্ট নেই, তাদেরও জরুরি ভিত্তিতে দূতাবাসে আসার অনুমতি দেওয়া হবে।’
সুলতানা লায়লা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের অর্থ ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি যে ইউক্রেন থেকে আগতদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য অর্থের প্রয়োজন হবে। এছাড়াও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা পোল্যান্ডে বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছি।’ তিনি জানান, প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার বাংলাদেশি ইউক্রেনে বসবাস করেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই শিক্ষার্থী। ইউক্রেন থেকে বের না হলে দূতাবাস তাদের নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। এরই মধ্যে ই-মেইল এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের তথ্য আপডেট করে বিষয়টি অন্যদেরও জানাতে বলা হয়েছে।
এর আগে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, বুধবার রাতে দূতাবাস ইউক্রেনে বাংলাদেশিদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশিরা যাতে আতঙ্কিত না হন এবং তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোরে এক টেলিভিশন বক্তৃতায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের দোনবাস তথা ডোনেটস্ক ও লুহানস্কে সেনা অভিযানের ঘোষণা দেন।
এরপরই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। বিবিসি জানায়, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের পাঁচ থেকে ছয়টি স্থানে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে।
পূর্ব ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার লাখো সেনা মোতায়েন নিয়ে উত্তেজনা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। গত সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) পূর্ব ইউক্রেনকে স্বাধীন ঘোষণার পর রাশিয়ার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান ছাড়াও ইউরোপের ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে। রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস পাইপলাইন নর্ড স্ট্রিম ২-তেও কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছে ইউরোপ। আপাতত প্রকল্প স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রাশিয়ার আগ্রাসী ভূমিকার ওপর পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ নির্ভর করছে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসছেন রাশিয়ার ৩৫১ আইনপ্রণেতা। ইইউর ব্যাংকগুলোয় থাকা রাশিয়ার তহবিল আটকে দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।