হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: ১৯৫২’র একুশে ফেব্রুয়ারিতে মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগকারী ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা মহানগর আওয়ামীলীগ অমর একুশ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে একুশের প্রহরে ২০ ফেরুয়ারি ২০২২, রবিবার রাত ৮টায় অরল্যান্ডোর বাঙালিদের প্রাণকেন্দ্র মশলা কিচেন চত্বরে। মূলত: নুতন প্রজন্ম ও বহির্বিশ্বে মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার রক্তাক্ত ইতিহাস তুলে ধরতে এই অনন্য আয়োজন। এতে অংশগ্রহণ করে প্রবাসের আপামর বাঙালি, নুতন প্রজন্ম , নারী পুরুষ সকলে।

বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি, বাংলাদেশ আমেরিকান ফাউন্ডেশন, আনন্দধারা, বরিশাল বিভাগীয় সমিতি এতে অংশগ্রহণ করে। সন্ধ্যা ৮টার মধ্যে স্বাস্থবিধি মেনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আগমণে মুখরিত হয়ে উঠে অস্থায়ী শহীদ মিনার চত্বর। অনুপ্রেরণা গর্ব শক্তি ও আত্মত্যাগের মহান দিবসটির আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মোয়াজ্জেম ইকবাল এবং সঞ্চালনা করেন ফখরুল আহসান শেলী।
জসীম উদ্দিনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনার পর সমবেত জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। অতঃপর ভাষা শহীদ সহ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর ‘মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠা থেকে স্বাধীনতা প্রাপ্তিতে একুশের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনায় সংগঠনের ও কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
বাঙালির মননে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বায়ান্নর একুশ মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠা, স্বদেশ ভূমি ও জাতিসত্তা ফিরিয়ে দিয়েছে। একুশ না হলে একাত্তর হত না, স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আসতোনা। রাজনীতি দেশপ্রেম অর্থনীতি শিক্ষা সংস্কৃতির বিকাশ হতনা। একুশের চেতনা আমাদের গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্নদিশারী। বায়ান্ন থেকে লাগাতার আন্দোলন সংগ্রামে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার মানুষকে মুক্তির নেশায় অনুপ্রাণিত করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। ভাষা আন্দোলনের পটভূমি বিশ্লেষণ উপরোক্ত আলোচনায় আলোকপাত করেন জসীম উদ্দিন, সালেহ করিমুজ্জামান, ইলিয়াস ঠাকুর, শামসুস তোহা, শাওন প্রজা, ফখরুল আহসান শেলী, রাসেল আহমেদ এবং মোয়াজ্জেম ইকবাল।

হৃদয়গ্রোথিত ধারা বর্ণনায় ভাষাসৈনিক ও শহীদের অনুপম কৃতি তুলে ধরেন করিমুজ্জামান। ভাষা শহীদ ও দেশমাতৃকায় শাহাদাৎবরণকারীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন জসীম উদ্দিন।
সাংস্কৃতিক পর্বে কালজয়ী গানে এ প্রজন্মের শিল্পী অনন্ত ও প্রত্যয় সকলকে বিমুগ্ধ করে, স্বনামধন্য গীতিকার সুরকার শফিকুল ইসলামের অনবদ্য গান সকলকে জন্মভূমিতে নিয়ে যায়। ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে গান পরিবেশন করেন গুণী শিল্পী বীর মুক্তিযোদ্ধা এম খসরু, মাটি ও মানুষের গায়ক সুরকার পল্লী ইসলামের স্বরচিত গানে আলোড়িত হয় দর্শকশ্রোতা। কবিতায় নির্যাস ছড়িয়ে দেয় নবনী। নৃত্যের তালে ও গীতি নাট্যে ঝংকার তুলে লিপি। শহীদ মিনার স্থাপন, কালো ব্যাজ ধারণ, নৈশভোজ ও সার্বিক সহযোগিতায় যাদের প্রাণবন্ত ব্যাবস্থাপনা সেবা দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা হলেন তোহা , জসীম,করিম, শাজাহান কাজী, কনক রেজা, জুয়েল চৌধুরী, মাইনুল।

রাত ১২টার পর শহীদদের স্মৃতির প্রতি সন্মান প্রদর্শনে শহীদ মিনারে সর্বপ্রথম পুষ্পার্গ অৰ্পণ করে সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা মহানগর আওয়ামীলীগ। এতে সহকর্মীদের নিয়ে নেতৃত্ব দেন মোয়াজ্জেম ইকবাল, ফখরুল আহসান শেলী, জসীম, আলম ইলিয়াস। তারপরে শামসুস তোহা, আপেল ও ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সোসাইটি, বাংলাদেশ-আমেরিকান ফাউন্ডেশনের পক্ষে নেতৃত্ব দেন রাসেল, মিলু। আনন্দধারার পক্ষে খসরু, পল্লী ইসলাম, বরিশাল বিভাগ সমিতির পক্ষে মীম, শফিক, অনন্ত-প্রত্যয়, নোয়াখালী সমিতি যুক্তরাষ্ট্র পক্ষে কনক, ফয়সল। সম্মিলিত নারী নেতৃত্বে তান্নি আহমেদ, তানজিন সানী, মিসেস কনক, মিসেস জসীম, মিসেস জুয়েল, লিপি, নবনী এবং নুতন প্রজন্ম শিশুদের পক্ষথেকে একঝাক কচি প্রাণ ও উপস্থিত নারী পুরুষ সকলে শহীদ মিনারে পুষ্পার্পণ করেন। দেশ বন্ধনায় এক টুকরো লাল সবুজের বাংলাদেশ ফিরে পায় প্রবাসী বাঙালি সমাজ। তখন মাইক্রোফোন থেকে অপূর্ব মূর্ছনায় প্রতিধন্বিত হয় আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমিকি ভুলিতে পারি?