প্রবাস মেলা ডেস্ক: আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সিডনির হার্সভিল সিভিক থিয়েটারে উদযাপিত হয়েছে সিডনিবাসী-বাংলা ডটকম পত্রিকার ২০তম বর্ষপূর্তি। গত ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় এক মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলার। বিশিষ্ট শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা, শাস্ত্রীয় নৃত্য এবং সম্মাননা প্রদানসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সিডনিবাসী-বাংলা ডটকমের সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল মতিন এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট নজরুলসংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরাকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ সময় পত্রিকাটিতে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট এবং অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতাকারীদেরও মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান পত্রিকাটির সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল মতিন।
সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে সাজানো এ অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন নজরুলসংগীতশিল্পী অমিয়া মতিন ও শিল্পী ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। তাঁদের সুমধুর কণ্ঠ ও হৃদয়স্পর্শী পরিবেশনা শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
শিল্পী অমিয়া মতিন প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ ইয়াকুব আলী খান, সুমন চৌধুরী, ফাতেমা তুজ জোহরা এবং ওস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর কাছে সংগীতের তালিম গ্রহণ করেন। সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ ও নিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাংলা সংগীতের চর্চা ও পরিবেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
অন্যদিকে, ড. আবদুল্লাহ আল মামুন প্রকৌশলী পরিচয়ের পাশাপাশি লেখক, গীতিকার, সুরকার, সংগীতশিল্পী ও সাংবাদিক হিসেবেও পরিচিত। তাঁর বহুমাত্রিক প্রতিভা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ড তাঁকে স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে।
অমিয়া মতিন ও ড. আবদুল্লাহ আল মামুনের দ্বৈত কণ্ঠে পরিবেশিত আশির দশকের জনপ্রিয় ও কালজয়ী গানগুলো শ্রোতাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় ফেলে আসা দিনগুলোতে। তাঁদের কণ্ঠের মেলবন্ধন ও অসাধারণ যুগলবন্দী শৈশব, কৈশোর ও তরুণ বয়সের মধুর স্মৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে। দর্শক-শ্রোতারা প্রাণভরে উপভোগ করেন এই নস্টালজিয়াময় পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানে নৃত্যাঞ্জলী ডান্স একাডেমির শিল্পীদের মনোমুগ্ধকর শাস্ত্রীয় নৃত্য পরিবেশনাও ছিল বিশেষ আকর্ষণ। নৃত্যের প্রতিটি মুদ্রা, ছন্দ ও অভিব্যক্তির নান্দনিক উপস্থাপনা দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন খ্যাতনামা একুশে পদকপ্রাপ্ত নজরুলসংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা। নজরুলসংগীত ও আধুনিক গানের পাশাপাশি তিনি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে কবিতা, ছড়া, উপন্যাস, গল্পসংকলন ও কলাম। নজরুলের গান নিয়েও তিনি একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সিডনিবাসী-বাংলা ডটকম পত্রিকার পক্ষ থেকে ফাতেমা তুজ জোহরাকে ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মাননা জানানো হয়। এ ছাড়া কানেক্ট কমিউনিটি অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে অমিয়া মতিন এবং সিডনিবাসী-বাংলা ডটকমের পক্ষ থেকে ড. আবদুল্লাহ আল মামুনকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
সংগীতের এই বিশেষ পর্বে ফাতেমা তুজ জোহরা ঠুমরি, খেয়াল ও গজলধর্মী নজরুলসংগীতসহ বিভিন্ন ধারার রাগসংগীত পরিবেশন করেন। তাঁর সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমী পরিবেশনা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। এ সময় তাঁর প্রিয় ছাত্রী অমিয়া মতিন তাঁর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে পুরোনো দিনের জনপ্রিয় গান ‘তারে বলবো আমি মনের কথা’ পরিবেশন করেন। দুই শিল্পীর এই চমৎকার যুগলবন্দী হলভর্তি দর্শক-শ্রোতাদের কাছ থেকে জোরালো করতালি ও প্রশংসা লাভ করে। ফাতেমা তুজ জোহরা একটানা দুই ঘণ্টা সংগীত পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে যন্ত্রসংগীতে সহযোগিতা করেন গিটারিস্ট সোহেল খান, তবলা বাদক অভিজিৎ দান, অক্টোপ্যাডে শাহরিয়ার এবং কিবোর্ডে সাইফ সোহান। তাঁদের দক্ষ পরিবেশনা শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
ন্যান্সি লিনা ব্যারেল ও ড. মাফরুহা আলমের সাবলীল ও প্রাণবন্ত উপস্থাপনা পুরো অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। এ ছাড়া অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে বিশিষ্ট নজরুলসংগীতশিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরাকে সম্মাননা জানানো হয়। বগুড়া সমিতি অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে প্রকৌশলী আবদুল মতিন, অমিয়া মতিন, ড. আবদুল্লাহ আল মামুন ও ফাতেমা তুজ জোহরাকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের বিশেষ মুহূর্তগুলো ভিডিওতে ধারণ করেন রায়হান আহমেদ, দিবস দেওয়ান ও অশোক অধিকারী। অ্যালেন জোসেফের ভিডিওগ্রাফি ও নিখুঁত সম্পাদনাও প্রশংসিত হয়।
দীর্ঘদিন পর এমন একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন সিডনির দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়। সংগীত, নৃত্য ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করে।