হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াসের প্রতিষ্ঠাতা ও কিংবদন্তি রাজনৈতিক নেতা সিরাজুল আলম খানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ জুন ২০২৫, মঙ্গলবার নিউইয়র্কের একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে প্রবাসী নাগরিকদের উদ্যোগে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভাটি পরিচালনা করেন হাজি আনোয়ার হোসেন লিটন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, অধ্যাপক জিয়া উদ্দিন দেলোয়ার, লাভলু সরকার, আবুল হাসান, মিয়া মোহাম্মদ মারুফ, প্রভাষক সিরাজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সুমন আহমদ, কাজী ইব্রাহিম খলিল, বুরহান উদ্দিন, ইকবাল আহমেদ, রাদিব আহমেদ জুয়েলসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সিরাজুল আলম খান ১৯৬১ সালে ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৬৩ সালে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে “স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস” নামে একটি গোপন সংগঠনের প্রতিষ্ঠা করেন, যার লক্ষ্য ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
তিনি ১৯৪১ সালের ৬ জানুয়ারি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৬ সালে খুলনা জিলা স্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৫৮ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে ভর্তি হন। কিন্তু ‘কনভোকেশন মুভমেন্টে’ অংশগ্রহণ করায় তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বক্তারা জানান, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে মতপার্থক্য দেখা দিলে তিনি গঠন করেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল—জাসদ। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ‘অভ্যুত্থান’-এর নেপথ্য পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম ছিলেন তিনি। জাসদ গঠনে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মেজর জলিল, আ স ম আবদুর রব এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু তাহের।
সিরাজুল আলম খান ভারতের দেরাদুনে ‘জয়বাংলা বাহিনী’ গঠন করেন, যা ‘মুজিব বাহিনী’ নামে পরিচিত ছিল। এ বাহিনী পরিচালিত হতো ভারতীয় মেজর জেনারেল সুজান সিং উবানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে।
তিনি জীবনের তিনটি পৃথক পর্যায়ে প্রায় সাত বছর কারাভোগ করেন। কনভোকেশন মুভমেন্টের কারণে ১৯৬৩ সালে প্রথম গ্রেফতার হন। এরপর ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে এবং সর্বশেষ ১৯৯২ সালে বিদেশ যাওয়ার সময় আবার গ্রেফতার হন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, সিরাজুল আলম খান রাষ্ট্রবিজ্ঞানে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। মার্কসীয় দর্শনের আলোকে তিনি রাষ্ট্রকাঠামোর একটি বিকল্প মডেল প্রস্তাব করেন। এতে ছিল দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ, প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা, উপজেলা পর্যায়ে স্বশাসনসহ নানামুখী বিকেন্দ্রীকরণ।
তাঁর অনন্য নেতৃত্ব, তাত্ত্বিক চিন্তাধারা ও স্বাধীনতা আন্দোলনে অবদানের কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, আজ যখন ইতিহাসকে একক ব্যক্তির গৌরবগাথায় সীমাবদ্ধ করে ফেলা হচ্ছে, তখন সিরাজুল আলম খানের মতো নির্লোভ, মেধাবী এবং দূরদর্শী রাজনীতিকদের স্মরণ করা জাতির দায়িত্ব।