মোস্তফা ইমরান রাজু, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: দক্ষিণ-পুর্ব এশিয়ার অনিন্দ্য সুন্দর দেশ মালয়েশিয়া। প্রতিকুল আবহাওয়া, খাদ্যাভ্যাষ, ধর্ম ও সংস্কৃতির অনেকাংশে মিল থাকায় শ্রমবাজারে বাংলাদেশীদের পছন্দের তালিকায় বেশ উপরেই থাকে দেশটি। আবার কঠোর পরিশ্রম, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে এখানকার নিয়োগকর্তাদের মনেও জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশীরা। মালিক-শ্রমিকের বোঝাপড়ায় দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশীদের অবস্থান এখন সবার উপরে।
সময় আর সুযোগ পেলে কর্মব্যাস্ততার এই মালয়েশিয়ার প্রবাস জীবনে মাঝে মধ্যে ঘুরতে বের হন প্রবাসীরা। এরই অংশ হিসাবে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষে মেঘ পাহাড়ের দেশ পাহাং রাজ্যের ক্যামেরন হাইল্যান্ড ভ্রমনের আয়োজন করে তারা। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্যামেরন হাইল্যান্ড ভ্রমনে অংশ নেয় বিভিন্ন স্থানের ৭০ জন প্রবাসী।
সকালের সূর্যদয়ের আগেই কুয়ালালামপুর থেকে ছেড়ে যায় তাদের বহনের দুটি বাস। শহরের কোলাহল ছেড়ে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে সবুজ অরন্যের মাঁঝ দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায় সকাল সাড়ে নয়টায়। ক্যামেরনের রুপ আর সৌন্দর্য অবর্নণীয়। প্রকৃতি যেনো নিজ হাতে সাঁজিয়েছে ক্যামেরন হাইল্যান্ডস’কে। কখনও সাদা মেঘের ভেলা ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় আবার মেঘের মধ্য দিয়ে সূর্য উঁকি দেয়। দিনের বেশিরভাগ সময়ই কাটে এভাবে। এরই মাঝে ঝর্ণা, ক্যাকটাস ভ্যালি, ল্যাভেন্ডার গার্ডেন, চা বাগান, স্টবেরি ফার্ম ও বিভিন্ন সবজি’র বাগানের দেখা মেলে ক্যামেরনে।
সাঁজানো গোছানো ক্যামেরন হাইল্যান্ডস এর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে অবদান রয়েছে বাংলাদেশী কর্মীদের। এখানকার দর্শনীয় স্থানের সবখানেই বাংলাদেশী কর্মীর দেখা মিলবে তবে বিশেষ করে বলতে হলে সবজির বাগানগুলো একচেটিয়া বাংলাদেশীদের আধিপত্য।
প্রথমবারের মতো ক্যামেরন হাইল্যান্ডস ঘুরতে যাওয়া অনেক প্রবাসীর কাছে, এই ট্যুরটা ছিলো স্বপ্নের মতো। আর এ স্বপ্ন পুরনে সেসব ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে তাদেরকে ধন্যবাদ দিতেও ভুল করেননি ট্যুরে অংশ নেয়া প্রবাসীরা।
ভ্রমনে বাড়তি মাত্রা যোগ করে ২১ শে ফেব্রুয়ারীর ছবিযুক্ত একই ধরনের টি-শার্ট আর যাওয়া আসার পথে আবৃত্তি, গান, অভিনয়সহ নানা ধরনের আয়োজন এবং র্যাফেল ড্র। এতো ব্যাস্ততার মাঝেও সমবেত কন্ঠে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় সংগীত পরিবেশনে ভুল করেন নি তারা।
ট্যুরের আয়োজক সালাহউদ্দিন মিয়া বলেন, এ ধরনের ট্যুর প্রবাস জীবনে আমাদের একে অন্যের প্রতি সৌহর্দ্য সম্প্রীতি বাড়ায়। আমরা এই প্রবাসে বিভিন্ন থানা কিংবা জেলার পরিচয়ে পরিচিত হতে চাই না বরং এখানে আমরা সবাই বাংলাদেশী। এই পরিচয়ে আমরা সকলে মিলমিশে প্রবাসী জীবনের সকল বাঁধা অতিক্রম করতে চাই বলে মন্তব্য করেন, সালাহউদ্দিন মিয়া।