সৈয়দ এম.হোসেন বাবু, লস এঞ্জেলেস, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯৫২ সালের এই দিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮, বৃহস্পতিবার) বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে অনেক তরুণ শহীদ হন। একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের মর্মন্তুদ ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৭ নভেম্বর ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ লস এঞ্জেলেস থেকে ৭০ মাইল দূরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের পেরিস সিটির প্রবাসী বাংলাদেশিরা পেল স্থায়ী শহীদ মিনার। শহরের একটি পাবলিক হলের সামনের পার্কে ১ লাখ ৮৭ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয়ে স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করেছেন সিটি কাউন্সিল। এই সিটির মোট জনসংখ্যা ৮০ হাজারের মত। নতুন বসতি হলেও বাঙালীরা নবউদ্যমে আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের পথে ধাবিত হচ্ছেন। সাথে জড়িয়ে রাখছেন বাঙালীর চিরায়ত সংস্কৃতি এবং সংগ্রামী চেতনা। সে আলোকেই পেরিস সিটিতে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় কাঠের ফ্রেমে শহীদ মিনার তৈরী করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের কর্মসূচি চালু হয় ২০১২ সালে। ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ডে ইনক’ নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে মহান শহীদ দিবস উদযাপনের কর্মসূচি সূত্রেই ২০২০ সালে সিটি মেয়র মাইকেল এম ভার্গাস সমীপে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয় স্থায়ীভাবে শহীদ মিনারের জন্য। এরপরই সিটি মেয়র ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ডে ইনক কে আমন্ত্রণ জানান।

ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ডে ইনক এর ১০ জন বর্তমান সভাপতি শহীদ আহমেদ মিঠু, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ খলিলুর রহমান রাজু, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল শাহীন, সহ-সভাপতি টিটো ইসলাম, অ্যাম্বাসেডর শওকত আলম, কনভেনর সাঈদ হিমু, জনসংযোগ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল, উপদেষ্টা সাইফুর ওসমানী জিতু, ইসমাইল হোসেন এবং মোহাম্মদ আলী। সেখানে যাবার সময় শহীদ মিনারের একটি নমুনাও (কাঠের তৈরী শহীদ মিনার) সাথে নিয়ে যায়। তা দেখে মেয়র সম্মত হন এবং জানান, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী সবকিছু করা হবে। মেয়রের আন্তরিকতার কারণে খুব দ্রুত সিদ্ধান্তটি হয়। মেক্সিকান আমেরিকান এই মেয়র মাতৃভাষার জন্য সংগ্রামের পথ বেয়ে বাঙালীরা স্বাধীন একটি ভূখন্ড লাভ করেছেন- এটি ইতিহাসে বিরল ঘটনা। বাঙালীর এই ত্যাগের কথা সকল ভাষা-ভাষী মানুষকে জানানোর প্রয়োজন রয়েছে ভীষণভাবে। এই শহীদ মিনার হয়ে উঠবে সেই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
এছাড়া এটি পাবলিক লাইব্রেরী চত্বরে নির্মিত হওয়ায় ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের কৌতুহলের অবসানও ঘটাতে সক্ষম হবে। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, পেরিস সিটি মেয়র মাইকেল এম ভার্গাস, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর কনসাল জেনারেল সামিয়া আঞ্জুম, ১৯৫২ সালের ভাষা সৈনিক ডা. মোহাম্মদ সিরাজউল্লাহ, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ লস এঞ্জেলেস এর প্রেসিডেন্ট সৈয়দ এম হোসেন বাবু, ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ ইনক এর সভাপতি শহীদ আহমেদ মিঠু, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ খলিলুর রহমান রাজু, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল শাহীন, সহ সভাপতি টিটো ইসলাম, অ্যাম্বাসেডর শওকত আলম, কনভেনর সাঈদ হিমু, জনসংযোগ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল, উপদেষ্টা সাইফুর ওসমানী জিতু, ইসমাইল হোসেন এবং মোহাম্মদ আলীকে সাথে নিয়ে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন। আমেরিকা এবং বাংলাদেশ এর জাতীয় সংগীত বাজিয়ে ফিতা কেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, পেরিস সিটি মেয়র মাইকেল এম ভার্গাস শহীদ মিনার উদ্বোধন করার পর পরই ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করা ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপনে এক মিনিট দাড়িয়ে নিরবতা পালন করেন এবং পেরিস সিটি মেয়র মাইকেল এম ভার্গাস, তারপর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর কনসাল জেনারেল সামিয়া আঞ্জুম ,বাংলাদেশী কমিউনিটি ইংল্যান্ড এমপায়ার , বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ লস এঞ্জেলেস, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ সাউদেন ক্যালিফোর্নিয়া, ক্যালিফর্নিয়া স্টেট আওয়ামীলীগ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ ক্যালিফোনিয়া শাখা, ক্যালিফর্নিয়া আওয়ামীলীগকে সাথে নিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শহীদবেদীতে পুষ্প অর্পণ করেন।
মধ্যাহ্ন ভোজ বিরতীর পর ১৯৫২ সালের ভাষা সৈনিক ডা. মোহাম্মদ সিরাজউল্লাহ সহ লস এঞ্জেলেস প্রবাসী বাংলাদেশী শিল্পীদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন পেরিস সিটি মেয়র মাইকেল এম ভার্গাস। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ লস এঞ্জেলেস (বালা)’র প্রেসিডেন্ট সৈয়দ এম হোসেন বাবু বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রীয় কমিটির প্রস্তাবিত সাধারণ সম্পাদক মো: জিল্লুর রহমান নিরু, ভাষা সৈনিক ডা. মোহাম্মদ সিরাজউল্লাহ এবং মো: রেজাউল করিম রেজা কে সাথে নিয়ে পেরিস সিটি মেয়র মাইকেল এম ভার্গাস কে মাতৃভাষা বাংলা দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে আমতলা সভার বিরল চিত্রটি উপহার প্রদান করেন। আমেরিকায় বেড়ে উঠা নতুন প্রজন্মের নিয়ে ৪টা ৩০ মিনিট শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ৫টা ১৫ মিনিট কাবেরী রহমানকে দিয়ে শুরু হয় বড়দের মনমুগ্ধকর সন্ধ্যা।
এতে সংগীত পরিবেশন করেন কেয়া ইকবাল, মাফুজা শিল্পী, শহিদ আলম। সময়ের অভাবে হাফিজুর রহমান এপোল, আদনান খান, উর্মি আতাহার, রাজিন কবির চয়ন ও নাহার লিপি সংগীত পরিবেশন করতে পারেন নি। ৬টায় আমন্ত্রিত শিল্পী এস আই টুটুল উপস্থিত দর্শকদের তার সংগীতের যাদুতে মাতিয়ে তোলেন।