হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে ‘সাউথ সাউথ কো-অপারেশনকে আরো দৃঢ়তর করার প্রত্যয়ে একটি নতুন মন্ত্রী পর্যায়ের ফোরাম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব’ বিষয়ে আয়োজিত একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের আলোচনায় যোগদেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এম.পি। এ বৈঠকে আর্জেন্টিনা, চীন, কিউবা, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মালাউই, মরক্কো, নেপাল, ফিলিপাইন, রুয়ান্ডা, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, সলোমন দীপপুঞ্জ, থাইল্যান্ড, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন এই ফোরাম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তার প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে, এই মুহুর্তে সাউথ সাউথ কো-অপারেশনে মন্ত্রী পর্যায়ের কোন প্ল্যাটফর্ম নেই। তাই তিনি ২০১৯ সালের মার্চে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত BAPA+40 সম্মেলনে গ্লোবাল সাউথের পররাষ্ট্র/অর্থ/উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রীদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের ফোরাম প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি বলেন, এ ফোরামের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে গ্লোবাল সাউথের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ তাদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করার সুযোগ পাবে। তিনি আরো বলেন, ‘আমি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি, জাতিসংঘের মহাসচিব এবং গ্লোবাল সাউথের বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর কাছ থেকে এ প্রস্তাবে খুবই আশাব্যঞ্জক সমর্থন পেয়েছি’। এছাড়া এ ফোরাম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব ত্বরান্তিত করার জন্য এ বছরের যে কোনো সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে এই ফোরামের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করার সদিচ্ছাও ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলি টেকসই উন্নয়নের জন্য ২০৩০ সালের এজেন্ডা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি অর্জনে সাউথ সাউথ কো-অপারেশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তারা এইগুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব আনয়নের জন্য বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কিউবা, কেনিয়া, মিশর, রুয়ান্ডা এবং মরক্কো-এর প্রতিনিধিরা এই ফোরাম প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবের প্রতি অকুন্ঠ সমর্থনের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এছাড়াও এ বিষয়ে সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নেপালের প্রতিনিধিরা গঠনমূলক বক্তব্য রাখেন। বক্তারা প্রস্তাবটিকে বাণিজ্য, অর্থ, বিনিয়োগ, জ্ঞান ভাগাভাগি সহ সাউথ সাউথ কো-অপারেশন এর অব্যবহৃত সুযোগ কাজে লাগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসাবে বিবেচনা করছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত জনাব মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত বৈঠকটি পরিচালনা করেন এবং এতে তিনি স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সাউথ-সাউথ কো-অপারেশনের জাতিসংঘ অফিসের একজন প্রতিনিধিও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।