জাহাঙ্গীর আলম শিকদার, লন্ডন, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: যুক্তরাজ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রেল ধর্মঘট চলছে। এতে বিপাকে পড়েছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। রেল শ্রমিকরা চাকরির নিরাপত্তা ও বেতন বাড়ানোর দাবিতে ১ অক্টোবর ২০২২, শনিবার দিনব্যাপী ধর্মঘট পালন করেন। খবর বিবিসি’র।
সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, গত এক বছর ধরে যুক্তরাজ্যে রেল শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ বাড়ছে। তারা প্রায়ই নানা সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করে আসছেন। এবার পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আইনজীবীরাও। মূলত দেশটিতে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে সবাই একত্র হয়ে আন্দোলন করছে। এরইমধ্যে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
রেল ধর্মঘটের কারণে পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কেননা দেশটির বেশিরভাগ মানুষ রেলে যাতায়াত করে থাকেন।
শনিবার কয়েকটি ইউনিয়নের মোট ৫০ হাজার রেলশ্রমিক ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করেন। ফলে রেল ব্যবস্থার ১৪টি অপারেটর ও নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরএমটি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিক লিঞ্চ বলেছেন, এই অচলাবস্থা নিরসনে কোনো কোম্পানির কাছ থেকে আমরা এখনও কোনো প্রস্তাব পাইনি। তিনি আরও বলেন, সব কোম্পানি এখন রেলওয়ে থেকে মুনাফা তুলতে ব্যস্ত রয়েছে। তারপরও কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের চাকরি ছেড়ে দিতে বলছে।
যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন সময়ে মজুরি বাড়ানোর দাবিতে ধর্মঘট হচ্ছে। এ বছর দেশটিতে ধর্মঘটের সংখ্যা বেড়েছে। এসব ধর্মঘটে পরিবহন শ্রমিকদের পাশাপাশি আইনজীবী ও ডাককর্মীরাও যোগ দিয়েছেন। কেননা দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি বাড়েনি।
গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী অ্যান মেরি ট্রেভেলিয়ানের সঙ্গে দেখা করেছে আরএমটি ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধিদল। তারা সেখানে বেতন বৃদ্ধিসহ শ্রমিকদের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন। আরএমটি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিক লিঞ্চ এই আলোচনাকে উৎসাহজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
রেল কর্তৃপক্ষ চলমান ধর্মঘটকে অপ্রয়োজনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেছেন, সরকারের কাছে দেয়া তাদের সবশেষ প্রস্তাবে সুবিধাসহ দুই বছরে ৮ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির কথা ছিল।
তারা আরও বলেছেন, শনিবারের ধর্মঘটে পুরো রেল ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ১১ শতাংশ রুট সচল ছিল।