প্রবাস মেলা ডেস্ক: করোনা মহামারির কারণে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে শ্রীলঙ্কা। এ পরিস্থিতিতে দেশটি দেউলিয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। রেকর্ড মূল্যস্ফীতি, আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্য এবং কোষাগার শূন্য হয়ে পড়ায় এমন আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক টানাপোড়নের কারণে অর্থনৈতিক মন্দায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলংকা। তবে করোনার থাবায় দেশটিতে ধস নামার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
করোনায় ভয়াবহ সংকটে শ্রীলঙ্কার পর্যটন খাত। দেশটির জিডিপির ১০ শতাংশের বেশি আসে এ খাত থেকে। ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কারণে এ খাতের ২ লাখ মানুষ বেকার। বিশ্ব ব্যাংক জানিয়েছে, মহামারি শুরুর পর দেশটির ৫০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র সীমার নিচে নেমে এসেছে।
মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে একসময় সচ্ছল মানুষেরাও পরিবারের ভরণপোষণে হিমশিম খাচ্ছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সামর্থ্যও নেই অনেকের।
এদিকে রাজাপাকসে অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর সেনাবাহিনীকে চাল ও চিনির মতো নিত্যপণ্য বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এতে জনগণের দুর্দশা বিন্দুমাত্র কমেনি।
শ্রীলঙ্কার জন্য বড় বোঝা বিদেশি ঋণ। চীনের কাছে ৫০০ কোটি ডলার দেনা রয়েছে। এছাড়া এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ট্যাক্স কমানোয় দেশটির রাজস্বও কমে এসেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ, ভারত, ওমানসহ মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন সহায়তা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তার কোনো প্রভাব পড়ছে না দেশটিতে।
শ্রীলঙ্কার ক্রমহ্রাসমান রিজার্ভ দেশটির জন্য চরম সংকট তৈরি করেছে। বিশ্লেকদের মতে, সংকট কাটাতে দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রকে আরও কঠোর নীতি গ্রহণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছে সহায়তার জন্যও আবেদন করতে হতে পারে।