প্রবাস মেলা ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সাময়িকভাবে মার্কিন সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির অগ্রগতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) নিজের সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প জানান, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং আলোচনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হওয়ায় ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করছিল যুক্তরাষ্ট্র। খবর আল জাজিরার।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন ও স্বাক্ষরের সম্ভাবনা যাচাই করতে আমরা অল্প সময়ের জন্য এই কার্যক্রম বন্ধ রাখছি, যদিও অবরোধ বহাল থাকবে।
এই ঘোষণার মধ্যেই উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, তারা হরমুজে ইরানের বেশ কয়েকটি নৌকা ধ্বংস করেছে এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালির নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে জাহাজগুলোকে নির্ধারিত পথ মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যথায় ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আক্রমণাত্মক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ করেছে এবং এখন ‘আগে গুলি না চালালে গুলি চালানো হবে না’ নীতিতে রয়েছে। তবে হরমুজ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টার জন্য ইরানকে ‘মূল্য দিতে হবে’ বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই প্রণালি দিয়ে হয়। ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, সার সরবরাহে সংকট এবং বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।