প্রবাস মেলা ডেস্ক: সাগরপথে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টাকালে ২০২১ সালে প্রায় সাড়ে চার হাজার অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ২০৫ জন শিশু। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নিখোঁজরা আর বেঁচে নেই।
২ জানুয়ারি ২০২২, সোমবার ওয়াকিং বর্ডারস নামে এক পর্যবেক্ষক সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ২০১৮ সাল থেকে নিখোঁজদের হিসাবে গত বছর সর্বোচ্চ নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ অভিবাসীদের সংখ্যা ২০২০ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
ওয়াকিং বর্ডারস জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ রুট (নৌপথ), ছোট নৌকা এবং সাগরে অভিবাসীদের সাহায্যকারী জাহাজের আতঙ্কে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে।
স্পেনের সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর দেশটিতে ৩৯ হাজার অবৈধ অভিবাসী প্রবেশ করেছে। এই অভিবাসীরা সমুদ্র ও স্থলপথে দেশটিতে প্রবেশ করেছে। ২০২০ সালেও সমানসংখ্যক অবৈধ অভিবাসী স্পেনে ঢুকেছেন।
২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে এসব ঘটনার ৯০ শতাংশই স্পেনের ক্যানারি দ্বীপে (আটলান্টিক সাগর) যাওয়ার পথে ১২৪টি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে।
ক্যানারি আইল্যান্ড আফ্রিকার নিকটবর্তী হওয়ায় স্পেনে ঢুকতে এ নৌপথ সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে সেখানকার অভিবাসীরা। অপর দিকে বাকি ১০ শতাংশ অভিবাসী ভূমধ্যসাগর হয়ে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করে।
ওয়াকিং বর্ডারসের প্রতিষ্ঠাতা হেলেন মালেনো বলেন, এক মাস নিখোঁজ অভিবাসীদের ধরে নেওয়া হয়, তারা আর বেঁচে নেই। এই এক মাসে প্রায় ৯৫ শতাংশ নিখোঁজের কোনো সন্ধান পাওয়া যায় না।
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বলছে, ২০২১ সালে ক্যানারি দ্বীপে প্রবেশে চেষ্টাকালে ৯৫৫ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ২০১৪ সালের পর এটি ক্যানারি দ্বীপে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। সংস্থাটির দাবি, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে আরও অনেক বেশি হতে পারে।
উল্লেখ্য, স্পেনে প্রবেশকালে মৃতদের কোনো তথ্য স্পেন রাখে না। দেশটির সরকার গণমাধ্যমে এ বিষয়ে কোনো কথাও বলতে চায় না।