অসীম বিকাশ বড়ুয়া, সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিনিধি: দক্ষিণ কোরিয়াতে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রথম কার্যক্রম চালুর মধ্য দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশ্বের সর্বাধুনিক ই পাসপোর্ট পাওয়ার পথ খুলল। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের চতুর্থ মিশন হিসেবে ২০ অক্টোবর ২০২১, বুধবার উদ্বোধন করা হয় এ কার্যক্রমের।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. তরুণ কান্তি শিকদার, দক্ষিণ কোরিয়ায় নবনিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মো: দেলোয়ার হোসেন এবং ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক কর্নেল আনোয়ার সাদাত আবু মোঃ ফুয়াদ পিএসসি।

এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত ঢাকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী বৃন্দ ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মো: দেলোয়ার হোসেন তাঁর বক্তব্যে এই দিনটিকে সিউলের বাংলাদেশ দূতাবাসের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপরেখার আলোকে বাংলাদেশ বিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সমূহের ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে । দক্ষিণ কোরিয়াতে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার ফলে এ দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত প্রক্রিয়াসমূহ সহজতর ও নিরাপদ হবে। রাষ্ট্রদূত মো: দেলোয়ার হোসেন আরো বলেন, ই-পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হওয়ায় এর বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে এবং বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের সাথে ভিসা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহী হবে, যা বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পাসপোর্ট এর মান মর্যাদা বৃদ্ধি করবে।
কর্নেল আনোয়ার সাদাত আবু মো: ফুয়াদ পিএসসি তার বক্তব্যে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম ও প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. তরুণ কান্তি শিকদার বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সমূহ তুলে ধরে বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন রূপরেখা বাস্তবায়নের একটি অন্যতম মাইলফলক হলো ডিজিটাল ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম।
তিনি আরো বলেন, এ লক্ষ্যে সরকার অচিরেই বিদেশস্থ সকল মিশনসমূহে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু করনে ও বাংলাদেশের জনগণকে পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরে তিনি কয়েকজন আবেদনকারীকে ই-পাসপোর্ট এর এনরোলমেন্ট স্লিপ হস্তান্তর করেন। এরপর, সম্মানিত অতিথিগণ ফিতা কেটে বাংলাদেশ দূতাবাস সিউলের পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং দূতাবাসের কনস্যুলার শাখায় নব স্থাপিত ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট সিস্টেম পরিদর্শন করে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়।