আখি সীমা কাওসার, রোম, ইতালি প্রতিনিধি: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন প্রথম প্রজন্মের লায়লা শাহ, অন্যজন আমাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের জুমানা মাহমুদ। দুজনেই ইতালিয়ান সিটিজেনশিপধারি। লাল পাসপোর্টপ্রাপ্ত ইতালীয় নাগরিক। লায়লা শাহ ও জুমানা মাহমুদ দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু এর আগে যদিও ইতালির রাজনীতিতে সরাসরি কেউ যুক্ত হননি, তবে রোমসহ ইতালির বিভিন্ন প্রভিন্সে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরাসরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন অনেক বাংলাদেশি। কেউ কেউ কাউন্সিলর পদে ভোটাভুটির মাধ্যমে জিতেছেন।
রোমে প্রথম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রথম নারী কাউন্সিলর হোসনেয়ারা বেগম সরাসরি শুধুমাত্র বাংলাদেশি ইতালি প্রবাসীদের ভোটের মাধ্যমে Azionata (শুধুমাত্র যাদের ইতালিয়ান পাসপোর্ট আছে এবং যারা রোমে বসবাস করে তাদের ভোটে) জয় লাভ করে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।
তারপরে সীমা দাস নামের একজন মহিলা কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করে হেরে যান। তারপর ২০১৬ সালে রোম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রথম দ্বিতীয় প্রজন্ম নাফিয়া বাহালাম শিলা সরাসরি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন সেও জয়লাভ করেনি।
৩ ও ৪ অক্টোবর ২০২১ আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এবার দুজন মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হয়েছেন। বাংলাদেশি ইতালিয়ান প্রবাসী লায়লা শাহ ও বাংলাদেশি ইতালিয়ান প্রবাসী জুমানা মাহমুদ। একজন ৫ ও ১২ ওয়ার্ড ও অন্যজন ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছাড়াও যেকোনো মিউনিসিপিও থেকে রোম সিটির কাউন্সিলর পদেও তাকে ভোট দেয়া যাবে।
ঢাকায় জন্ম নেয়া জুমানা মাহমুদ ২০০৭ সাল থেকে ইংল্যান্ড ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল বাংলা টিভিতে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে একাধিক টেলিভিশনে কাজ করার পর বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের সময় টেলিভিশনের ইতালি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইতালির রোমে তরভেরগাতা Torvergata ইউনিভার্সিটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্রী জুমানা মাহমুদের সাথে কথা বলে জানাযায়, এখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যার কথা ভেবেই ইতালির রাজনীতিতে আসা । রাজনৈতিক এই প্লাটফর্মে থাকলে আমাদের বাংলা কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যার কথা সরকারের কাছে তুলে ধরতে সহজ হবে চিন্তা করেই মূলত আমি এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।
অপরদিকে রোম কমিউনিটির পরিচিত মুখ এবং সবার কাছে সমানভাবে নন্দিত লায়লা শাহ। তার সাথে কথা বলে একই উত্তর পাওয়া গিয়েছে যে, বাংলাদেশি কমিউনিটির সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য একটি শক্ত প্লাটফর্ম দরকার। এবং এই রাজনৈতিক প্লাটফর্মে থেকেই সেটা সম্ভব হবে। তাই সেও ভেবেছে একমাত্র ইতালির রাজনৈতিক প্লাটফর্মে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে বাংলাদেশিদের তথা অন্যান্য দেশের অভিবাসীদেরও সমস্যাগুলো সমাধান অতি সহজেই করা যাবে বলে তার ধারণা।
ইতালিতে এই প্রথম কোন ব্যবসায়ী নারী ও বাংলাদেশি নারী সাংবাদিক রোম সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে সরাসরি প্রার্থী হয়েছে। এই নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট পেলে দুইজন মহিলা কাউন্সিলর প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের প্রবাসীদের ও ইতালিয়ানদের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ।

ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রধান সমস্যা হলো তারা ইতালিতে থেকেও ইতালিয়ান ভাষার প্রতি অনেক অনাগ্রহতা। প্রতিদিন চলাফেরায় যেটুকু জানে সেটা দিয়েই অনেক সময় তারা পার করে দিয়েছে । শুধু মাত্র ভাষাগত সমস্যার জন্য অনেকেই প্রাতিষ্ঠানিক কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারে না। ইতালির ভাষা শিখতে অনেকেই বিভিন্ন অজুহাত দেখান। এই দুজন মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী যদি সবার সহযোগিতায় কাউন্সিলর হন তাহলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভাষা শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেবেন এবং ইমিগ্রেশন সমস্যার সমাধানে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলে জানান।
এখানে একটি কথা উল্লেখ করতে হয়, দ্বিতীয় প্রজন্মের জুমানা মাহমুদ সাংবাদিক হাসান মাহমুদের একমাত্র কন্যা। বাবার হাত ধরে জুমানা মাহমুদ সাংবাদিকতায় পা রাখেন।