হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল যথাযোগ্য মর্যাদায় বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করে। এ বছর বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকীতে প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বঙ্গমাতা সংকটে সংগ্রামে নির্ভীক সহযাত্রী’ -যা মহীয়সী এ নারীর জীবন ও কর্মের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। উল্লেখ্য, সরকারেরে সিদ্বান্ত অনুযায়ী এ বছর প্রথম বারের মত বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী “ক” শ্রেণীভূক্ত জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা এবং কনস্যুলেটের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে প্রেরিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী’র বাণী পাঠ করা হয়। জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের অন্যান্য শহিদ সদস্যসহ সকল শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং দেশের অব্যাহত সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয় এবং তাঁদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর উপর নির্মিত একটি প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
কনসাল জেনারেল তাঁর বক্তব্যের শুরুতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সকল শহিদ সদস্যদের হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে বিচারের রায় কার্যকরে সচেষ্ট ভূমিকা রাখার জন্য তিনি সকলকে পুনরায় অনুরোধ জানান ।

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর জীবন সম্বন্ধে আলোকপাত করতে গিয়ে কনসাল জেনারেল বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর অবদান অপরিসীম। দেশ ও জাতির জন্য অপরিসীম ত্যাগ, সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও বিচক্ষণতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবকে ’বঙ্গমাতা’-তে অভিষিক্ত করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর বিশ্বনেতা হওয়ার নেপথ্যে তাঁর নিরবিচ্ছিন্ন অনুপ্রেরণা এবং বলিষ্ঠ ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে বঙ্গমাতা এক অন্যতম নির্ভীক সৈনিক। বাঙালি জাতির সুদীর্ঘ স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি বঙ্গবন্ধুকে সক্রিয় সহযোগিতা করেছেন।
বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব’কে কনসাল জেনারেল ’রত্নগর্ভা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তিনি শত প্রতিকূলতার মাঝেও তাঁর সন্তানদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন এবং তাঁরই জন্য আজ আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মত অতি বিচক্ষণ, দূরদর্শী এবং মমতাময়ী একজন মহান নেতার নির্দেশনায় বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলতে এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের নির্ভিক, সংগ্রামী, ত্যাগী ও সংযমী জীবনাদর্শে অনুপ্রাণিত হওয়ার জন্য সকলকে আহবান জানান।

নিউইয়র্কে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস এর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, স্বাগতিক দেশের বিধি-বিধান প্রতিপালন করে কনস্যুলেটে এই দিবস উদযাপন করা হয়।