জাহাঙ্গীর আলম সিকদার, লন্ডন, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: কোভিড-১৯ এর দীর্ঘ ১৮ মাস পর হলেও ১ আগস্ট ২০২১, রবিবার লন্ডনে আই অন পরিবারের সকলের অংশগ্রহণে বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়।
বনভোজন নিয়ে আলোচনার শুরু থেকেই কোথায় যাবো তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অবসান হয় ১ আগস্ট ২০২১, রবিবার। শেষ পর্যন্ত কেন্টের ফোকষ্টন শৈকতে সত্যি এক আনন্দঘন পরিবেশে আনন্দ উচ্ছাসে কেটে গেলো পুরুটা দিন। যদিও সকালের দিকে একটু মেঘ, একটু বৃষ্টি আবার রোদের মাঝেও মেঘ কিংবা মেঘের ফাঁকে রোদ আনন্দটা আরও বেশি ভাগাভাগি করে নিল সবাই যেন ‘রোদ হচ্ছে পানি হচ্ছে খেক শিয়ালের বিয়ে হচ্ছে’ (প্রবাদ ফকলোর সোসাইটি)। আনন্দটা কমতি ছিলনা কোন মতেই যেন ছোট এক খন্ড বাংলাদেশ।

দু’টি বাস রওয়ানা হলো বারকিং আই অন টিভি’র অফিসের সামনে থেকেই। সময়ের সাক্ষী যেন একে অপরের খুব পরিচিত দুটি বাস দু’টি রঙের গোলাপি আর সবুজ। এক সাথেই রওনা আই অন টিভির সিইও আতাউল্লাহ ফারুকের নেতৃত্ব ও পরিচালনায় সবাই ছিল এক প্রানবন্ত আনন্দ উচ্ছাসে। কেননা প্রবাসের প্রতিদিনের ব্যস্ততার জীবন নিরস হয়ে উঠেছিল। আর ব্যস্ততার বনভোজন মনের খোরাককে প্রসারিত এবং আন্তরিকতার বন্ধন তৈরি করল যেন আরও শক্তভাবে।
প্রায় ২ ঘন্টা যাত্রাকালীন দু’টি বাসের ভিতরে যোগাযোগ ছিল অবিচ্ছিন্ন। কবির কবিতায়, শিল্পীর গানে গানে আর কৌতুকের রং রসে ছিল ভরপুর। ফোনালাপ ছিল সবুজ বাস আর হলুদ বাসের আরোহী চড়ুইভাতির। কখন যে মেঘলা আকাশ আর বৃষ্টি পেরিয়ে সমুদ্র সৈকতে এসে হাজির হলো বন্ধনের দু’টি বাস টেরই পেলামনা কেউ। নেমেই দৌড় ঝাপটা খেলাধুলা আর নাচে গানে, গোসলে উচ্ছাসে বেলা গেল বয়ে।
সাথে নিয়ে যাওয়া খাবার শুধু নিজেরাই খেয়ে শেষ হয়নি বিদেশিরাও অনেকে খেয়ে মজা পেয়েছে এমনটাই তাদের মন্তব্য। এ যেন স্বদেশের সুনামে অন্যরকমের এক অভিজ্ঞতা।

ছোটদের আর বড়দের খেলাধুলা’র পুরস্কার বিতরণীর শেষ করে আবার ঘরে ফিরার পালা। হলুদ সবুজে রওনা হয়ে নিদৃষ্ট গন্তব্যস্থল ছেড়ে ধীরে ধীরে রওনা হয়ে আবার বারকিং আই অন অফিসের সামনে এবং যার যার ভাবে বিদায়ের ঘন্টি নিয়ে চলে যাই সবাই আনন্দ ভাগাভাগি করে তবে কষ্টটা রয়েই গেল সে আনন্দ যেন কবি রবিন্দ্রের ‘যেতে নাহি দিব হায় তবু চলে যায়’।

যেন আবার কোথাও বনভোজন বা চডু়ইভাতির মিলনের অপেক্ষায় অন্যকোন সৈকতে কিংবা শহরে কেননা এ আই অন বন্ধন কখনো ছিন্ন হবার নয় এ এক অভিজ্ঞতা এবং আন্তরিতার পাশাপাশি অনুভুতিরও বন্ধন কম নয় এক খন্ড প্রবাসী বাংলাদেশিদের।