ওয়াসীম আকরাম, বৈরুত, লেবানন থেকে প্রতিনিধি: লেবানন থেকে দেশে ফেরাতে ২০ জুন ২০২১, রবিবার পাসপোর্ট নাম্বার বিহীন প্রবাসী বাংলাদেশীদের ‘স্বেচ্ছায় দেশে ফেরতে নাম নিবন্ধনের বিশেষ কর্মসূচী’ শুরু হয়েছে। দূতাবাসের আয়োজনে পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচি সকাল ১১টায় বৈরুতে আল আনসার স্টেডিয়ামে শুরু হয় এবং আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। এছাড়াও যাদের পাসপোর্ট আছে তারা দেশে ফিরতে নাম নিবন্ধন করতে পারবেন বলেও জানায় দূতাবাস।

লেবানন জেনারেল সিকিউরিটি কর্তৃক ধার্য্যকৃত ছয় লক্ষ পঞ্চাশ হাজার লেবানিজ লিরা জমা দিয়ে প্রবাসীদের নাম নিবন্ধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আল মোস্তাহিদুর রহমান ও প্রথম সচিব (শ্রম) দূতালয় প্রধান আবদুল্লাহ আল সহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা।
আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রথম দিনে ১৯৪ জন পাসপোর্ট নম্বর বিহীন কর্মীর নাম নিবন্ধন করা হয়। এদের মধ্য দূতাবাস ৪০ জনের পাসপোর্ট খুজে পেতে স্বক্ষম হয়েছে।
আবদুল্লাহ আল মামুন আরো বলেন, দূতাবাসের দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টার ফলে লেবানন সরকার কিছু শর্ত স্বাপেক্ষে এই সুযোগ দিয়েছে। আগামীতে ফের এই সুযোগ না আসার সম্ভাবনা বেশি। তাই তিনি পাসপোর্ট নম্বর বিহীন সকল প্রবাসীদের এই কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করতে বিশেষ অনুরোধ করেন।
নাম নিবন্ধনকারী নারীকর্মী শেফালী বেগম জানান, নয় বছর আগে গৃহকর্মী হিসাবে লেবানন আসা হয় তার। ভাষাগত সমস্যা ও মালিকের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে, পালিয়ে অন্যত্র দীর্ঘ ৯ বছর কাজ করেন। পাসপোর্ট ছাড়াই নিয়োগকর্তার বাসা ত্যাগ করে ভয়ের মধ্য দিয়ে কাজ করলেও কাগজপত্র না থাকায় দেশে যাওয়া হয় নাই তার। দেশে নিজ পরিবারের নিকট ফিরতে, দূতাবাসের এমন ঘোষণায় বাংলাদেশ থেকে জম্ম নিবন্ধন সনদ এনে আজ নাম নিবন্ধন করে খুশি তিনি।

এছাড়াও বলেন, আগে এখানে রোজগার ভালোই ছিল খেয়ে দেয়ে পরিবারের জন্য প্রতিমাসে পঁচিশ বা ত্রিশ হাজার টাকা পাঠানো যেত। বর্তমানে এদেশের টাকার মূল্য হ্রাস ও ডলারের মূল্য বৃদ্ধি সহ বিভিন্ন সমস্যা।
এখানে কাজ থাকলেও পাঁচ বা ছয় হাজার টাকার বেশি দেশে প্রেরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শেফালী।
প্রথম দিন নাম নিবন্ধনের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও যারা নাম নিবন্ধন করেছেন তারা রাষ্ট্রদূত সহ দূতাবাসের কর্মকর্তাদেরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।