চঞ্চলা চঞ্চু:
বিশ্বাসঘাতক জীবন, তোমার দেয়া কবরটাকেই আমি জীবন বানিয়ে ফেলেছি!
দ্যাখো কীভাবে :
এখানে সকাল আসে, জনমানবশূন্য কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে পড়ে-থাকা
কোনো গ্যালাক্সির নিঃসঙ্গতা নিয়ে, এখানে প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা পৃথিবীর
ফসলি দোলা নেই, লতাগুল্ম অবিশ্বাস্য ধূসর গুঞ্জন!
বৃক্ষের শাখা-প্রশাখায় নেই উজ্জ্বল পতঙ্গের ওড়াউড়ি।
আমি পাত্তা দিই না।
বিশ্বাসঘাতক জীবন, তোমার দেয়া কবরটাকেই আমি জীবন বানিয়ে ফেলেছি।
দ্যাখো কীভাবে :
এখানে আমার কাছে দুপুরগুলো আসে চিরাচরিত চেহারা পাল্টে,
অনেকটা টানা ঝড়-বৃষ্টিতে নাজেহাল কোনো পাখির মতো অথবা ঘোর
অমাবস্যার মতো,
আমি নিষ্ক্রিয় থাকি, এই স্বেচ্ছাচারী অন্ধকার বুঝতেও যাই না! চোখ তুলেও
দেখি না!
বিশ্বাসঘাতক জীবন, তোমার দেয়া কবরটাকেই আমি জীবন বানিয়ে ফেলেছি!
দ্যাখো কীভাবে :
এখানে গোধূলির রঙে রাঙা বিকেলটা-রঙ-বেরঙের পাখিদের কথা-সুর দিয়ে,
গান বাঁধতে বাঁধতে আমার কাছে আসে না।
এখানে বিকেল আসে পৃথিবীর সব দীর্ঘশ্বাস নিয়ে-মহা দুর্যোগের মতো।
আমি দারুণভাবে চিৎকার করে-
হেসে তুলোর মতো উড়িয়ে দিই তীব্র অভাব! তীব্র যন্ত্রণা।
আর তুমি যেসব রাতের গল্প জানো,
ভেব না তেমন কোনো রাত এখানেও আসে, আসে না।
এখানে রাতগুলো আসে প্রাগৈতিহাসিক রহস্যের তলানিতে পড়ে-থাকা
নিখোঁজ কোনে সময়ের নিখোঁজ কান্নার মতো!
আমি পাত্তা দিই না! পাত্তা নিই না আমি।