মুহাম্মদ ইউসুফ খাঁন, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
আমাদের সময়কার রাজনীতি আর এখনকার রাজনীতি যেন রাত-দিন তফাৎ । আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীরা আজ নিজ সংগঠনেই কোণঠাসা ।পক্ষান্তরে ভুঁইফোড় সুবিধাভোগী ২০০৮ থেকে বর্তমান সময়ের ‘হালের নেতারা’ বিপুল দাপটে, অর্থ-বিত্ত এবং ক্ষমতায় পরিপুষ্ট। ত্যাগীরা বঞ্চিত-নিপীড়িত, নির্যাতীত। তাদের মুখে শুধুই হৃদয়ভাঙ্গাঁ হতাশা ও বেদনার করুণ সুর।
অতীতের বিভিন্ন কমিটিতে ভুঁইফোড় সুবিধাভোগীরা দুর্নীতি-অনিয়মে- লুটপাট সব মিলে আকণ্ঠে নিমজ্জিত। তা দেখে নিবেদিতপ্রাণ নেতারা প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেকে হয়েছেন নির্যাতিত নিগৃহীত- নির্বাসিত । তাদের অনেকেই ক্ষোভে-দুঃখে-রাগে অভিমানে দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। কেউ কেউ আবার অন্য দলেও যোগ দিয়েছেন।
এই অবস্থা আওয়ামী লীগের,অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনেও একই অবস্থা বিরাজমাণ। যার জন্য আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম মোটেই বৃদ্ধি পায়নি উপরন্ত সংকুচিত হয়েছে এবং তা বহমাণ। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলের অভিজ্ঞ সৎ ত্যাগী নবীন-প্রবীণ কর্মীদেরকে নাকচ করে দিয়ে অনুপ্রবেশকারী সুবিধাভোগীদেরকে সুকৌশলে স্থান করে দেওয়া হয়েছে। এটি সংগঠনের জন্য এক সময় বুমেরাং হতে বাধ্য। স্যার- মহোদয়- ভাইয়ের বলয়ে পেশী শক্তি – অর্থ প্রতিপত্তির দৌঁড়ে ওয়ার্ড ইউনিয়ন পৌরসভা আওয়ামীলীগে নানাণ রকম বিভাজন রয়েছে।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মত সর্ববৃহৎ সংগঠনে বিভিন্ন ওয়ার্ড ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের মূল নেতৃত্বে আসা দরকার ছিল অপেক্ষাকৃত সুশিক্ষিত – ব্যক্তিত্ব ও রুচিসম্মত জেনেটিক লিডারশীপ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বহু ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক সিলেকশনে নির্বাচিত হয়েছেন যাদের কোন উল্ল্যেখযোগ্য ন্যূনতম যোগ্যতা নেই। এদের তথ্য নিয়ে যেটি উঠে আসে তারা কোন কোন বিশেষ বলয়ের অঞ্চলপ্রেক্ষিত সুবিধাভোগী।
সীতাকুন্ডের আওয়ামী রাজনীতিতে প্রতিপক্ষ বিএনপি-জামায়াত- জাতীয় পার্টি- জাসদকে মোকাবেলা করে সংগঠনকে যারা নিজ জীবনের মায়া ত্যাগ করে জীবনবাজী রেখে আন্দোলন সংগ্রামে সর্বশক্তি নিয়োগ করে আজকের ক্ষমতার আওয়ামীলীগকে টিকিয়ে রেখেছিল তারা আজ অবহেলিত এবং বহুলাংশে সংগঠন বিমুখ অবস্থানের দিকে ঝুঁকছে যা আওয়ামী রাজনীতির জন্য অশনী সংকেত বটে।
সীতাকুন্ড উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন ২৯ নভেম্বর শুক্রবার। বিশ্বাস ছিল স্বৈরাচার – সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে যে সব ছাত্র যুবনেতার নিরবিচ্ছিন্ন ঈর্ষণীয় সাফল্যগাঁথা সংগ্রামমুখর ভূমিকা ছিল সে সকল প্রতিভাবাণ ৯০ শতাংশ ত্যাগী নিবেদিতপ্রাণ নেতা উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা নির্বাচনে ভূমিকা রাখবার জন্য একটি কাউন্সিলর কার্ড পায় না। নানামুখী সরকারের টানা তিনবারের সুবিধাভোগকারী হালের নেতাদের পোয়াবারু অবস্থা। তারা সোনার সোহাগা। ত্যাগী ছাত্র যুবনেতারা এমনভাবে কুন্ঠিত ও নিগৃত যে তাদের জীবনবাজী রাখা সংগ্রামের কোন মূল্যায়নই করতে রাজী নন স্যার-মহোদয়-ভাই এবং তাদের চ্যালাচামুন্ডারা।
এমন বিভিষিকাময় অবস্থা থেকে বারংবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আহ্বান তাদের কান পর্যন্ত পৌঁছায়না কিংবা পৌঁছলেও সুকৌশলে যেন এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষণীয়।
৮৮ সালে সীতাকুন্ড সরকারী স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি, ঐ সময়ে মুরাদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ৯০- ৯৬ পর্যন্ত সীতাকুন্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক-সভাপতি, রিয়াদ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, রিয়াদ যুবলীগের সভাপতি, সীতাকুন্ড উপজেলা কৃষকলীগের সদস্য সচিব, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সদস্য সচিব হয়েও আমি যখন ইউনিয়ন / উপজেলায় কাউন্সিলর হতে পারিনা সেক্ষেত্রে বাকীদের অবস্থা কেমন হতে পারে তা সহজে অনুমেয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি যতই তৃণমূলের জন্য কান্না করুন না কেন আপনার কান্না আপনার অকৃতজ্ঞ স্বার্থান্বেষী জেলা উপজেলা ইউনিয়ন নেতাদের কর্ণপাত হয় না কিংবা হবে না। ওদের কানে কিভাবে পৌঁছাতে হয় তার তড়িৎ ব্যবস্থা না নিতে পারলে আপনার নিয়ন্ত্রাধীণ সংগঠনের জন্য সামনের অনাগত দিনগুলোতে রহিবে অশনী সংকেত।