সম্প্রতি সৌদিআরব থেকে ধর্ষণসহ নানা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে একের পর এক বাংলাদেশি নারীশ্রমিক দেশে ফেরত আসছে। ফলে অভিবাসন নিয়ে কাজ করা কিছু সংগঠন দেশটিতে নারী গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধের দাবি তুলছে। শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের নানা অভিযোগ ওঠায় সৌদিআরবে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর বন্ধের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদেও।
সৌদি ফেরত নারীকর্মীরা বলছেন, হাতেগোনা কিছু বাড়ির কর্মী ছাড়া অধিকাংশ নারীকর্মীই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নির্যাতন সইতে না পেরে অনেকে পালিয়ে আসছেন, আবার অনেকেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন। সম্প্রতি ভিডিওতে জীবন বাঁচানোর আকুতি জানানো আলোচিত নারীকর্মী সুমি আক্তারই তার অন্যতম প্রমাণ। একটি বেসরকারি সংস্থার তথ্যানুযায়ী, নির্যাতনের কারণে গত তিন বছরে কমপক্ষে পাঁচ হাজার নারীকর্মী সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশ বাংলাদেশের জন্য বিশাল শ্রমবাজার। কিন্তু সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিশ্চিত না করে দালালচক্রের মাধ্যমে নারীদের সেখানে পাঠানোর কারণে তারা নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরছেন। এমন পরিস্থিতি কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নারী গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ অনেক পুরনো ও সর্বজনবিদিত। যার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দেশ সেখানে গৃহকর্মী পাঠানো স্থগিত রেখেছে। এরপরও বাংলাদেশ থেকে নারী গৃহকর্মী পাঠানো চলতে থাকে। এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সৌদিতে ২০ লাখের বেশি পুরুষ শ্রমিক আছে। নারী শ্রমিক পাঠানোর কারণেই গত চার বছর ধরে আবার দেশটি পুরুষ শ্রমিক নিচ্ছে। এই বিষয়টিও সরকারকে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।
আমরা মনে করি, বিদেশ যাওয়া এসব গৃহকর্মীদের অধিকার, নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অবশ্যই সরকারের। কিন্তু এগুলোর প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ফেরত আসা নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। দূতাবাসগুলোর সংবেদনশীল সক্ষমতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের নির্যাতন বন্ধ করা এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা না গেলে নারীকর্মীদের সেখানে পাঠানোর বিষয়টি আপাতত বন্ধ রাখা উচিত বলে আমরা মনে করি। জনগুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি সরকারের ভেবে দেখা দরকার।
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন, নিরাপদ থাকুন।