অসীম বিকাশ বড়ুয়া, সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে: ৯ মার্চ ২০২২, বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। কোরিয়ান সময় ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোরিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন। ভোটাররা চাইলে তাদের ভোট প্রদান সম্পূর্ন হয়েছে কিনা সেটাও ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করতে পারবেন।
প্রধান দুই প্রার্থী- কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি লি জে-মিউং এবং প্রধান বিরোধী দল রক্ষনশীল পিপল পাওয়ার পার্টির ইউন সুক-ইওল। সর্বশেষ জরীপে একে অপরের বিরুদ্ধে সমানে সমান লড়ছেন ।
কোরিয়ার দুইটি বড় রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং পিপল পাওয়ার পার্টির প্রার্থী সহ অন্যান্য দল মিলিয়ে মোট ১৪ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে।
যিনি বিজয়ী নির্বাচিত হবেন, তিনি কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হবেন যার কোনো আইন প্রণয়ন বা মন্ত্রিসভার অভিজ্ঞতা নেই। দেশের প্রথম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯৮৭ সাল থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২০১৭ সালে পরিচালিত নির্বাচনে সমস্ত বিজয়ীদের জাতীয় পরিষদের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যেখানে তাদের অনেকেই দলীয় কেবিনেট নেতা হিসাবে তাদের নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছিলেন।
৬১ বছর বয়সী ইউন সুক ইওল, রাজনীতিতে নতুন আবির্ভূত হয়েছেন গত জুনে তার রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থিতা ঘোষণা করার মধ্যদিয়ে। ৫৭ বছর বয়সী লি জে মিয়ং একজন প্রবীণ পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, যিনি ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সিওংনাম সিটির মেয়র এবং ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত – কোরিয়ার সবচেয়ে জনবহুল প্রদেশ- গিয়ংগি প্রদেশের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু ইউন সুক ইওল এর বিধায়ক হিসেবে তার কোনো অভিজ্ঞতা নেই।
এর প্রেক্ষিতে লি বা ইউন যেই নির্বাচিত হন, তিনি পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসাবে বিরোধী দল এবং আইন প্রনেতাদের সাথে সু সম্পর্ক গঠন করতে সক্ষম হবেন কিনা তা পরীক্ষার সম্মুখীন হবেন।
এছাড়াও, লি জে মিয়ং যদি জয়ী হন তবে তিনি রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রাক্তন গিয়ংগি প্রদেশের গভর্নরদের ব্যার্থতার রেকর্ড ভেঙে দেবেন, যারা অতীতে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন ।
পূর্ববর্তী বেশ কয়েকজন গিয়ংগি প্রদেশের গভর্নর যারা রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তাদের প্রার্থীতা ঘোষণা করেছিলেন – লি ইন-জায়ে, সোহন হক-কিউ, কিম মুন-সু এবং নাম গিয়েং-পিল তারা রাষ্ট্রপতি পদে জয়ী হতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এই সম্পর্কে সচেতন লি জে মিয়ং, গিয়ংগি প্রদেশে একটি রাস্তার প্রচারণার সময় বলেছিলেন, “কিছু লোক বলে যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পূর্ববর্তী গিয়ংগি গভর্নরদের জন্য একটি ‘কবর’। কিন্তু আমার জন্য, এটি একটি “ফ্লাওয়ার রোড”’ হবে।“ফ্লাওয়ার রোড”হলো একটি কোরিয়ান অভিব্যক্তি যা সমৃদ্ধ ভবিষ্যত বর্ণনা করতে বুঝানো হয়।
এ দিকে ইউন সুক নির্বাচিত হলে, তিনি হবেন দেশের ইতিহাসে প্রথম প্রসিকিউটর- প্রেসিডেন্ট।
ইউন সুক দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে অধ্যায়ন করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে একজন প্রসিকিউটর হন। তিনি ২০১৯ সালের জুন মাসে প্রসিকিউটর-জেনারেল হিসাবে পদোন্নতি লাভ করেন এবং ২০২১ সালের মার্চ মাসে তিনি পদত্যাগ করার পুর্ব পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
হং জুন-পিও নামের আরেকজন প্রসিকিউটর থেকে রাজনীতিতে এসেছিলেন কিন্তু তিনি ২০১৭ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের কাছে পরাজয় বরণ করেন।পাঁচ মেয়াদের এই আইনপ্রণেতা দলীয় প্রাইমারিতে ইউন সুকের কাছে পরাজিত হয়েছেন ।এছাড়া আরো অনেক এলিট রাজনীতিবদও দলীয় প্রাইমারী নির্বাচনে হেরেছেন যার মধ্যে- প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লি নাক-ইয়ন, জাতীয় নিরীক্ষা সংস্থার প্রাক্তন প্রধান চোই জায়ে-হায়ং এবং প্রাক্তন জেজু গভর্নর ওয়ান হি-রিয়ং উল্লেখযোগ্য।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার ২০ তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অগ্রিম ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়াতে বসবাসরত বিদেশীরা যাদের নাগরিকত্ব অর্জন হয়েছে একমাত্র তারাই ভোট প্রদান করতে পারবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের মধ্যে এবারের নির্বাচন নিয়ে করোনাকালীন সময়ের মধ্যেই টানটান উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। করোনার ঊর্ধ্বগতির সময়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে কোরিয়ানদের সাহসী জাতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে অভিবাসীরা।এদিকে নির্বাচনের দিন দক্ষিণ কোরিয়ার কল-কারখানা অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।