ওয়াসীম আকরাম, বৈরুত, লেবানন প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ-১০ আসনের সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে লেবানন আওয়ামীলীগের সভাপতি সৈয়দ বাবুল মিয়া এর সভাপতিত্বে ও সহ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় মুজিববর্ষ ও মহান বিজয় দিবস উদযাপন করলো লেবানন আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, রবিবার রাজধানী বৈরুতের পাশে এলাকা দাউরা সি.আই.টি স্কুল হল রুমে মহান বিজয় দিবসটি পালন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা সদস্য বাবুল মুন্সি ও প্রধান বক্তা ছিলেন লেবানন আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু তফন ভৌমিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সহ সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, প্রধান উপদেষ্টা দোলা মিয়া মুক্তিযোদ্ধা, উপদেষ্টা সদস্য মাহাবুব আলম, সিনিয়র সহ সভাপতি বিপ্লব হোসেন, উপদেষ্টা সদস্য আজাদ ভূইয়া, আব্দুল শহীদ, সহ সভাপতি রুবেল আহমেদ, হিরন মিয়া, সবুজ মিয়া, আব্দুর রাজ্জাক সিকদার, শামসুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দীন আলা, মোস্তফা কামাল মন্ডল, লেবানন যুবলীগ সভাপতি সোহেল মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান ভূইয়া সবুজ, লেবানন আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আবু তাহের, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজ মোল্লা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাতিক, মহিলা সম্পাদিকা সুফিয়া বেগম, ফরিদা আক্তার মুন্সি, মায়া বেগম ও সুমাইয়া বেগম।

এছাড়া লেবানন আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির অঙ্গসংগঠন লেবানন যুবলীগের পরিচিত সভা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ লেবানন শাখার সভাপতি সোহেল মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান ভূইয়া (সবুজ) এবং আমজাদ হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে যারা কমিটিতে স্থান পেয়েছে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।
মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বেই বাঙালি জাতির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন (১৬ ডিসেম্বর) বা বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস। বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০ বছর পূর্ণ হলো গত বৃহস্পতিবার।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে ও বাঙালি জাতিকে আন্দোলিত করে স্লোগান শিখিয়েছেন- বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো; তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা -মেঘনা- যমুনা। তারই নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ, আর তিনিই এর মহান স্থপতি।’১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর এই দিনে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) নতমস্তকে আত্মসমপর্ণ করেছিল হানাদার বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। দীর্ঘ ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত এর বিনিময়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে বাঙালি তথা বাংলাদেশ।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শে তাঁর সৌযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিম্ম আয় থেকে মধ্য আয়ে দেশকে উপনীত করেছেন । কিন্ত স্বাধীনতা বিরোধী চক্র ও রাজাকার আলবদর এখনো দেশে- প্রবাসে নানান প্রচার চালাচ্ছে। দলের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে আহবান জানান তারা।
এছাড়াও বলেন, ১৯৯৮ সালে লেবানন আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন থেকে অবদি এবং ভবিষ্যতে লেবানন আওয়ামীলীগ অসহায় প্রবাসীদের পাশে থেকে কাজ আসছে এবং করে যাবে। কারো কোন প্রকার সমস্যা বা কারো দ্বারা যদি কোন প্রকার হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন তাহলে লেবানন আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি সৈয়দ বাবুল মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক বাবু তফন ভৌমিক’কে জানাতে অনুরোধ করেন। তারা দূতাবাসের সহযোগিতায় নিয়ে সমস্যা সমাধানের আশা ব্যক্ত করেন।
পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত পাঠের মধ্যদিয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও বঙ্গবন্ধু সহ সকল শহীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ফারুক আহমেদ এর নেতৃত্বে আনন্দঘন উল্লাসে দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় এবং অবশেষে আপ্যায়নের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্তি ঘটে।