মনিরুজ্জামান মনির, মালে, মালদ্বীপ প্রতিনিধি: মালদ্বীপস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মো: সোহেল পারভেজ-এর নেতৃত্বে থিনাধু আইল্যান্ড পরিদর্শন করেন (১১-১৪ সেপ্টেম্বর)। রাজধানী মালে থেকে প্রায় ৪৬৫ কি.মি. দূরে গাফ ধালু এটল-এর অধীনে আইল্যান্ডটি অবস্থিত। সেখানে কোনো বিমানবন্দর না থাকায় কাধিদু বিমানবন্দরে ১১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বিমানযোগে দলটি পৌঁছায়। নৌপথে থিনাধু আইল্যান্ডে পৌঁছালে কাউন্সিলের কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ও তার দলকে অভ্যর্থনা জানান।
প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসের তৃতীয় সচিব মো: জিল্লুর রহমান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিস শিরিন ফারজানা, কল্যাণ সহকারী আল মামুন পাঠান এবং কনস্যুলার সহকারী এবাদ উল্লাহ। স্বল্প, সহজলভ্য ও দ্রুততম সময়ে সার্বিক কনস্যুলার সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতায় হাইকমিশন হতে ইতোমধ্যে আড্ডু সিটি, লামু-গ্যান আইল্যান্ড, মাফুসী আইল্যান্ড, থুড্ডু আইল্যান্ড এবং গুলহি দ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য সেবামূলক কাজ করেছে।
উল্লেখ্য, থিনাধু দ্বীপে অবস্থানরত প্রায় দুই হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীদের কনস্যুলার সেবা প্রদানের নিমিত্তে স্থানীয় একটি স্কুলে দুই দিনব্যাপী (১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর) দূতাবাসের ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার ও কল্যাণ ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। এই সেবা ক্যাম্পে থিনাধু আইল্যান্ড ও নিকটবর্তী আইল্যান্ড থেকে আগত প্রবাসী বাংলাদেশীদের ই-পাসপোর্ট, এমআরপি আবেদনপত্র মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে এনরোল করা হয়। এ ছাড়াও তাদের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য কার্ডও তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করা হয়। রাজধানী মালেতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে না গিয়ে নিজ আইল্যান্ডেই এহেন সেবা প্রাপ্তিতে প্রবাসী বাংলাদেশীরা খুবই আনন্দিত। এতে তাদের সময় এবং অর্থ দুটিতেই অনেক সাশ্রয় হয়েছে। তাদের অভিব্যক্তি—এহেন কার্যক্রম চলমান থাকলে মালদ্বীপের বিভিন্ন আইল্যান্ডের বাংলাদেশীরা বহুল উপকৃত হবে।
উক্ত ক্যাম্পে আগত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে মতবিনিময় করেন প্রধান অতিথি মালদ্বীপে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মোহাম্মদ সোহেল পারভেজ। উক্ত সভায় তিনি বলেন—বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য কার্ড গ্রহণ, ই-পাসপোর্ট, স্থানীয় আইন-কানুন, স্বাস্থ্য-সুরক্ষা ইত্যাদি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নির্দেশনা ও তথ্য প্রদান করেন। তিনি আরও বলেন—বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ভূমিকা অপরিসীম ও অনস্বীকার্য। দেশের উন্নয়নের সাথে সাথে প্রবাসীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাবে। তিনি ভিসা দুর্নীতির দালাল চক্র হতে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি কোনো অবৈধ ব্যবসা ও মাদক সেবীদের সাথে জড়িত না হওয়ার জন্য উপস্থিত সবাইকে অনুরোধ করেন।
এছাড়াও ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মো: সোহেল পারভেজ-এর নেতৃত্বে দলটি থিনাধু সিটি কাউন্সিলের প্রতিনিধিদলের সাথে সৌজন্য বৈঠক করেন। এসময় উক্ত আইল্যান্ডে বসবাসরত সকল প্রবাসী বাংলাদেশীদের যেকোনো সমস্যায় কাউন্সিলকে সহায়তা করার অনুরোধ জানানো হয়। তাছাড়া আনডকুমেন্টেড প্রবাসী বাংলাদেশীদের বৈধকরণে সিটি কাউন্সিলকে সহযোগিতা প্রদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সিটি কাউন্সিলের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস প্রদান করা হয়।
এছাড়াও উক্ত আইল্যান্ডে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের খেলাধুলার সরঞ্জাম প্রদান করা হয়।