হাকিকুল ইসলাম খোকন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি: ‘যত বই তত প্রাণ’— এই শাশ্বত স্লোগানকে ধারণ করে আগামী ২২ মে থেকে নিউইয়র্কে শুরু হতে যাচ্ছে প্রবাসের অন্যতম বৃহৎ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব ‘৩৫তম নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা’। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনায় চারদিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে কুইন্সের জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে।
এবারের বইমেলার উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ রেহমান সোবহান। এছাড়াও দেশ-বিদেশের একঝাঁক গুণীজন অংশ নেবেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন- রওনক জাহান, ফরিদুর রেজা সাগর, ভারতের কবি সুবোধ সরকার, আমেরিকান কবি বব কোলম্যান, লেখক ফারুক মঈনউদ্দীন, সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, বিজ্ঞানী দীপেন ভট্টাচার্য এবং জনপ্রিয় সাহিত্যিক সাদাত হোসাইন।
গত রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের সইফ রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেলার পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন বইমেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, উপদেষ্টা গোলাম ফারুক ভুঁইয়া, সিইও বিশ্বজিৎ সাহা, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন এবং রাব্বানী ভুঁইয়া।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা শুধু একটি বইমেলা নয়, এটি বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক অনন্য উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি পৌঁছে দিতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের ২৫টির বেশি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, লেখক-পাঠক আড্ডা, সাহিত্য আলোচনা, কবিতা পাঠ, সংগীতানুষ্ঠান এবং নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর থাকবে পুরো আয়োজন।
বইমেলায় একাধিক সেমিনার ও আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়েছে। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস ও সমকালীন সমাজ-রাজনীতি নিয়ে দেশ-বিদেশের বিশিষ্টজনেরা এতে অংশ নেবেন। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বাংলা লিখন প্রতিযোগিতা এবং প্রবাসী বাংলা সংস্কৃতির নানা বৈচিত্র্যময় উপস্থাপনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে আয়োজকরা নিউইয়র্কে একই সময়ে একাধিক বাংলা বইমেলা আয়োজনের বিষয়েও মন্তব্য করেন। তারা বলেন, “শুধু কোনো নাম ব্যবহার করে অনুষ্ঠান করলেই সেটি বইমেলা হয়ে যায় না; বইমেলার একটি ঐতিহ্য, ব্যাপ্তি ও দায়বদ্ধতা রয়েছে।”
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ৩৫ বছরের এই অগ্রযাত্রায় প্রবাসী বাংলা গণমাধ্যমকর্মীদের অবদান অনন্য। তাদের ধারাবাহিক সহযোগিতার ফলেই বইমেলাটি আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করেছে।
ড. নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার পক্ষের মানুষদের মধ্যে এখন আরও বেশি ঐক্য প্রয়োজন। বইমেলা সেই সাংস্কৃতিক ঐক্যেরও একটি প্ল্যাটফর্ম।”
আয়োজকরা জানান, বইমেলা উপলক্ষে এবারও প্রকাশিত হবে একটি তথ্যবহুল স্মারকগ্রন্থ, যেখানে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং প্রবাসী বাঙালির নানা অর্জনের দলিল স্থান পাবে।
চারদিনব্যাপী এ আয়োজনে আবারও নিউইয়র্ক বাংলা ভাষা, বই ও বাঙালির মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে প্রত্যাশা আয়োজক ও সাহিত্যপ্রেমীদের।