প্রবাস মেলা ডেস্ক: বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্র্রাম্পের পাল্টা শুল্কারোপ জারির দিন ছিল বাংলাদেশ সময় শুক্রবার, ছুটির দিন। শুল্কারোপ নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়ে যায়। ছুটির দিন হওয়ার পরও খবরের সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক এ বিষয়ে রাত দেড়টা পর্যন্ত সভা করে করণীয় ঠিক করা হয়। সিদ্ধান্ত হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দেওয়ার।
অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই চিঠি পাঠান। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি দেশটির বাণিজ্যৎবিষয়ক দপ্তর ‘অফিস অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ’কেও (ইউএসটিআর) ১০০ পণ্য জিরো ট্যারিফ করতে আলাদাভাবে চিঠি দেওয়া হয় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের তরফ থেকে। এর একদিন পর রোববার অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে আরও একটি সভা করারও সিদ্ধান্ত নেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্কারোপের পর বাণিজ্য উপদেষ্টার নানামুখী তৎপরতা এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ট্রাম্পের অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ৩ মাসের জন্য স্থগিতের সংবাদে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা অনেকটা কমে যায়। ব্যবসায়ীরা সরকারকে এক ধরণের আস্থার জায়গায় বসান। এর মূলে কাজ করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। এদিকে পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপের উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনা বন্ধ করেছে চীন। অবশ্য বাংলাদেশ বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ ক্রয় করবে বলে জানা গেছে। আর এক্ষেত্রেও বাণিজ্য উপদেষ্টা বশির উদ্দিন দুই দেশের সঙ্গে নেগোশিয়েশনের দায়িত্ব পালন করবেন। এক্ষেত্রে যাতে সর্বোচ্চ সুযোগ পায় বাংলাদেশ। আর এ জন্য একজন দক্ষ লোক দরকার ছিল বাংলাদেশের। গতকালও এক অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন বলেছেন, আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ থেকে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক নিয়ে আলোচনার জন্য। যারা দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতির উপাদান, ট্যারিফ, নন-ট্যারিফ বাধা ও দুই দেশের অর্থনীতির জন্য পরিপূরক পণ্যগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা করবে। পাশাপাশি শুল্ক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আকাঙ্খার সরাসরি ধারণা নিয়ে পরবর্তী কর্মকৌশল গ্রহণ করবে। আর তাই পাল্টা শুল্কারোপের পর বাণিজ্য উপদেষ্টা বশির উদ্দিনের তৎপরতার পুরষ্কার হিসেবে বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পর এবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টিকে এই সময়ের জন্য অত্যন্ত যৌক্তিক এবং দক্ষতার পুরষ্কার বলছেন অর্থনৈতিক সাংবাদিকদের সংগঠন (ইআরএফ) এর সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। তিনি বলেন, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ট্রাম্পের অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সংবাদে দেশের ব্যবসায়ীসহ পুরো দেশ দুমড়ে-মুচরে পড়ে। এরপর বাণিজ্য উপদেষ্টার এই কেন্দ্রিক যে তৎপরতা, এ সিদ্ধান্ত ৩ মাস স্থগিতে ট্রাম্পকে প্রধান উপদেষ্টার চিঠি এবং পরবর্তীতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ৩ মাসের জন্য স্থগিত। এছাড়া ১০০ পণ্য জিরো ট্যারিফ করা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে বাণিজ্য উপদেষ্টার চিঠি। এ বিষয়ে ওই সময়ে শেখ বশির উদ্দীন বলেন, আমাদের মূল বিষয় হচ্ছে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। আমরা ওটার ওপরেই কাজ করছি। বিভিন্ন রকমের বিশ্লেষণ করছি যে কি কি পণ্য দিয়ে আমরা বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে পারি। আর সবকিছুই যেন ছিল মিরাকল। আর এ অসম্ভবকে সম্ভব করানোর অনন্য ভূমিকার কারনেই বাণিজ্য উপদেষ্টা বশির উদ্দিন আগের দুই মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পুরষ্কার হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কূটনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন, সামনে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ ক্রয় করবে বাংলাদেশ। আর এ জন্যও একজন দক্ষ নেগোশিয়েটরের দরকার ছিল সরকারের। এ জন্য সবচেয়ে ভালো চয়েজ বাণিজ্য উপদেষ্টা। এটিদেশের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন তিনি।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ৮ আগস্ট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। এরপর একাধিকবার উপদেষ্টা পরিষদে নতুন উপদেষ্টা যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে শেখ বশিরউদ্দীন গত বছরের ১০ নভেম্বর বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পান। এর সঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পেলেন।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব।