২০২০ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিকের আসর বসছে জাপানে। এ উপলক্ষে দেশটিতে নতুন নতুন স্থাপনা গড়তে ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অনেক নির্মাণ শ্রমিক লাগবে। তাই জাপান সরকার বিদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়েগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগে থেকেই জাপানের জনশক্তি নেওয়ার তালিকায় আছে চীন, ইন্দোনেশিয়া, নেপাল, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। জাপানে কর্মী পাঠানোর তালিকায় এবার নবম দেশ হিসেবে যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম। এখন বিনা খরচে জাপান যাওয়ার সুযোগ পাবেন দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীরা। বিষয়টি আমাদের জন্য অতীব আনন্দের। দক্ষ শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে গতবছর অগাস্ট মাসে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব রৌনক জাহান এবং জাপানের ইমিগ্রেশন সার্ভিস এজেন্সির কমিশনার মিজ সোকো সাসাকি নিজ নিজ দেশের পক্ষে সহযোগিতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর করেন। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় সরকারিভাবে বর্তমানে কারিগরি শিক্ষানবিশ হিসেবে কর্মী পাঠানো হচ্ছে সে দেশে। গত বছর ৪০০ কর্মী পাঠানোর সরকারি লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও সকল শর্ত পূরণ করে মাত্র ১৬৩ জন জাপানে যেতে পেরেছেন।
জাপান দু’টি ক্যাটাগরিতে আগামী পাঁচ বছর কেয়ার ওয়ার্কার, বিল্ডিং ক্লিনিং ম্যানেজমেন্ট, মেশিন পার্টস ইন্ডাস্ট্রিজ, ইলেকট্রিক, ইলেক্ট্রনিক্স, কনস্ট্রাকশন, জাহাজ শিল্প, অটোমোবাইল, কৃষিসহ জাপান ১৪টি খাতে বিশেষভাবে দক্ষ এবং জাপানিজ ভাষায় পারদর্শী কর্মীদের নিয়োগ প্রদান করবে। তাই জাপানের চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে দক্ষ কর্মী তৈরিতে বাংলাদেশ সরকারকে উপযুক্ত বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
জাপান যেতে অভিবাসন ব্যয় নেই বললেই চলে। তবে বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে জাপান বরাবরই রক্ষণশীল। তাই কোনো অঘটনের কারণে যেন বাজারটি বন্ধ হয়ে না যায়, সেদিকে সরকার সংশ্লিষ্টদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। কারণ জাপানে সবকিছুতেই স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার হয়। শুধুমাত্র দক্ষ কর্মীরা এখানে কাজের সুযোগ পাবে। তাই কোন অসাধু চক্র যেন জাপানে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতারণা করে ফায়দা লুটতে না পারে সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশটির শ্রমবাজারে বেশি হারে কর্মী পাঠাতে পারলে বাংলাদেশের রেমিটেন্স আয় আরো বাড়বে। প্রয়োজনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও বাড়াতে হবে। তবে প্রতিটি ধাপে সরকারের সতর্ক নজরদারি থাকা জরুরি।
১৫ জানুয়ারি ২০২০ প্রবাস মেলা ৬ষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ করতে যাচ্ছে। গত ৫ বছর প্রবাস মেলা’র পথ চলতে আমরা দেশ-প্রবাসের অনেক পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, প্রতিনিধি ও শুভানুধ্যায়ীকে সহযোদ্ধা হিসেবে পেয়েছি। সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা। ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন, নিরাপদ থাকুন। প্রবাস মেলা’র সাথেই থাকুন।