প্রবাস মেলা ডেস্ক: বাংলাদেশের জন্য ইতালিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে দেশটির সরকার। ৩১ আগস্ট ২০২১, মঙ্গলবার এই আদেশ কার্যকর হচ্ছে। ৩০ আগস্ট ২০২১, সোমবার ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:
ইতালির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মান্যবর জনাব রবের্তো স্পেরান্সা (H.E. Mr. Roberto Speranza) ২৮ আগস্ট ২০২১ ইতালিতে ভ্রমণ/প্রবেশ সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশে (ordinance) স্বাক্ষর করেন যা মঙ্গলবার, ৩১ আগস্ট ২০২১ থেকে কার্যকর হবে এবং সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
বিদ্যমান কভিড পরিস্থিতির কারণে নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন বাংলাদেশ (এবং ভারত ও শ্রীলংকা) এর নাগরিকবৃন্দ (যাদের কভিড-আক্রান্তের উপসর্গ নেই),
ক) যাদের ২৮ আগস্ট ২০২১ এর পূর্ব থেকেই ইতালিতে রেসিডেন্স পারমিট (residenza anagrafica) ছিল অথবা
খ) যারা স্টে পারমিট (permesso di soggiorno/carta di soggiorno lungo periodo) নবায়নের রসিদ (ricevuta di rinnovo) সহ ইতালির বাইরে অবস্থান করছেন
গ) যারা স্টে পারমিট মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার পর রি-এন্ট্রি ভিসা পেয়েছেন এবং
ঘ) নতুন ফ্যামিলি ভিসাধারীরা (পরিবারের মূখ্য/ প্রধান/ Principal Member-এর ২৮ আগস্ট ২০২১ এর পূর্বে ইতালিতে রেসিডেন্সি থাকা সাপেক্ষে) এ সুবিধার আওতায় ভ্রমণের সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন।
ঙ) পড়াশোনা/ শিক্ষা সংক্রান্ত কারণে যাদের ইতালিতে যাওয়া আবশ্যক তারাও নতুন অধ্যাদেশের আওতায় সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন
উপরোক্ত শর্ত যারা পূরণ করতে পারবেন না তাদের ক্ষেত্রে সর্বশেষ অধ্যাদেশ অনুযায়ী ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ২৫ অক্টোবর ২০২১ পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে পরবর্তীতে নতুন ঘোষণা না আসা পর্যন্ত। তবে জরুরী প্রয়োজনে তারা ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে ইতালিতে প্রবেশ করতে পারবেন। উক্ত অধ্যাদেশের আওতায় সিজনাল জব ভিসা, নন-সিজনাল জব ভিসা, ভিজিট/ট্যুরিস্ট ভিসাধারী ব্যক্তিরা সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন না।
বর্ণিত সুবিধা গ্রহণ করে আগমণকারীদের নিম্নলিখিত শর্তসমূহ প্রতিপালন (comply) করতে হবেঃ
ক) বিমানে আরোহনের সময় পূরণকৃত প্যাসেঞ্জার লোকেটর ফরম (মোবাইলে/ প্রিন্ট কপি) বহন করতে হবে
খ) কভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট (ইতালিতে প্রবেশের ৭২ ঘন্টা আগে করা মলিকিউলার/এন্টিজেন সোয়াব টেস্ট)
গ) ইতালিতে প্রবেশের পর মলিকিউলার/এন্টিজেন সোয়াব টেস্ট
ঘ) প্যাসেঞ্জার লোকেটর ফরমে উল্লেখ করা স্থানে ১০ দিনের বাধ্যতামূলক আইসোলেসন
উল্লেখ্য, কোভিড-সৃষ্ট কারণে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরোপের শুরু থেকেই ঢাকাস্থ পররাষ্ট্র মস্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ দূতাবাস, রোম সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। বাংলাদেশে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের গ্রহণযোগ্য যে কোন উপায়ে ফেরত আনার ব্যাপারে মান্যবর রাষ্ট্রদূত মো: শামীম আহসান ইতালির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডার-সেক্রেটারী, স্বাস্থ্য সচিবসহ উচ্চতর পর্যায়ের নীতি-নির্ধারকদের সাথে তাঁদের অফিসে একান্ত বৈঠক করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বাংলাদেশ সরকারের সক্রিয় ভূমিকার কারণে বাংলদেশে কোভিড পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির (visible progress) বিষয়টি রাষ্ট্রদূত ইতালি সরকারের কাছে তুলে ধরেন। একই সাথে তিনি আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের অসুবিধাসমূহ ও ইতালির নিয়োগকারীদের ব্যবসায়িক/আর্থিক ক্ষতির বিষয়টিও জোরালোভাবে বিভিন্ন যোগাযোগের মাধ্যমে (কূটনৈতিক পত্র/ ফোনালাপ ইত্যাদি) উপস্থাপন করেন।
আরো উল্লেখ থাকে যে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বন্ধুপ্রতীম ভারত ও শ্রীলংকার স্থানীয় রাষ্ট্রদূতদের সাথে এক্ষেত্রে একটি সমন্বিত উদ্যোগের (co-ordinated approach) আওতায়ও সক্রিয় থেকেছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন/ অনুসরণের জন্য বিশেষ অনুরোধ করা হলো যার সাথে দেশের ভাবমূর্তি সরাসরি জড়িত। দূতাবাস আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে যে, অধ্যাদেশের আওতায় শিথিলতার (relaxation) কারণে যারা শীঘ্রই ইতালি প্রবেশ করবেন তারা কোয়ারেন্টিন বিধি যথাযথভাবে পালন করবেন। কেউ যদি ইতালি সরকার কর্তৃক আরোপিত বাধ্যতামূলক আইসোলেসন এড়িয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্থানীয় ঠিকানার ক্ষেত্রে মিথ্যা/ অসত্য/ অসম্পূর্ণ ঠিকানা/ ফোন নম্বর ইতালির কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেন এবং যদি তা প্রমাণিত হয় তাহলে তিনি নজরদারীতে থাকবেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইতালি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা কোয়ারেন্টিন বিধি যথাযথভাবে মেনে চলবেন এ ব্যাপারে দায়িত্ব নিয়ে তাদের আশ্বস্ত করেছেন এবং দূতাবাস এক্ষেত্রে একটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন যা ইতালি সরকার স্বাগত জানিয়েছে।