কোলকাতা, ভারত প্রতিনিধি: ৩ অক্টোবর ২০১৯, দুর্গা পুজোর মহা পঞ্চমীর দিন শিশির মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো বাচিকশিল্পী কাবেরী ঘোষাল এর বাচিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গার্ডেনরিচ কলাঙ্গন এর বর্ষপূর্তি উৎসব। শুরুতেই সম্মেলক আবৃত্তি শুভেচ্ছা কবিতাটি পরিবেশন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন কাবেরী ঘোষাল ও কলাঙ্গন এর ছাত্র ছাত্রীরা। কলাঙ্গন এর সভাপতি শ্রী শুভাশীষ ঘোষাল তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কলাঙ্গন এর পথ চলার কথা বর্ণনা করে উপস্থিত সকলকে শারদীয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে, সমস্ত অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্ব তুলে দেন আর এক বিখ্যাত বাচিকশিল্পী শ্রী অসীম চক্রবর্তীর হাতে। তাঁকে উত্তরীয়, স্মারক ও পুষ্পস্তবক দিয়ে সম্বর্ধনা জানান শ্রীমতি কাবেরী ঘোষাল। এরপর মঞ্চে ডেকে নেওয়া হয় এ দিনের অনুষ্ঠানের দুই বিশিষ্ট অতিথি বিখ্যাত বাচিকশিল্পী শ্রী দেবাশীষ বসু এবং এই প্রজন্মের বিখ্যাত কবি শ্রী জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় কে। তাঁদেরও উত্তরীয়, পুস্পস্তবক ও স্মারক দিয়ে সংবর্ধিত করেন কলাঙ্গন এর প্রাণ প্রতিমা শ্রীমতি কাবেরী ঘোষাল। অনুষ্ঠানে তিনটি অত্যন্ত সুন্দর স্বরচিত কবিতা পাঠ করে দর্শক দের মন জয় করে নেন জয়দীপ। এরপর একে একে মঞ্চে ডেকে নেওয়া হয় আবহ প্রক্ষেপক ইন্দ্রম মৈত্র, আমন্ত্রিত অভিনেতা সুমিত পান্ডে, বিশেষ সহযোগী বন্ধু মানস ঘোষ এবং কাবেরী ও কলাঙ্গন এর অত্যন্ত কাছের বন্ধু নাট্যকর্মী শ্রী অমিত পান্ডে কে। এঁদের কেও একইভাবে সংবর্ধিত করেন কাবেরী ঘোষাল। এরপর দুর্গা কবিতা কোলাজ পরিবেশন করেন কলাঙ্গন এর ছাত্রীরা এবং একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন শ্রীমতি প্রণতি চ্যাটার্জী। এর পর কলাঙ্গন এর অধ্যক্ষা এবং প্রাণ প্রতিমা কাবেরী পরিবেশন করেন তিনটি অনবদ্য কবিতা।
এক সাথে সাত, কারমাটার এবং কবি জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় এর কলাবতী আজও কাঁদে। জয়দীপ এর অনবদ্য লেখনী, কাবেরীর অসামান্য উপস্থাপনা এবং নৃত্যে বাপন বিশ্বাস ও স¤প্রদায় এর অপূর্ব নৃত্য আঙ্গিক এই তিনের মেলবন্ধনে কন্যা ভ্রূণ হত্যায় ব্যাথিত এক দেহাতি মায়ের অসহায়তা দর্শকদের চোখের সামনে ভেসে উঠে অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয়। দর্শকদের বিপুল করতালিই তার প্রমাণ রাখে। আজকের শিশুদের কাছ থেকে খেলার মাঠ, রূপকথার গল্প, যৌথ পরিবার সব হারিয়ে গেছে। বাবা মা ব্যস্ত তাঁদের কাজের দুনিয়ায়। নিঃসঙ্গ শিশুরা একা একা বড় হয় আয়ার কাছে বা ক্রেশে। আর অফিস থেকে ফিরে ক্লান্ত বাবা মা ব্যস্ত হয়ে পড়েন ফেসবুক হোয়াটসআপএ। এরকম শিশুদের কথা ভেবে কলাঙ্গন এর শেষ পরিবেশনা ঠাকুরমার ঝুলি অবলম্বন এ আলোয় ফেরা। এক অভূতপুর্ব পরিবেশনা, নস্টালজিক এবং একই সঙ্গে এই প্রথম কবিতার আঙ্গিকে নাটক। এতদিন আমরা নৃত্যনাট্য, গীতিনাট্য দেখেছি কিন্তু কবিতার আঙ্গিকে নাটক সম্ভবত এই প্রথম এবং এই পরীক্ষামূলক নাটকে সম্পুর্ণভাবে সফল কাবেরী। কলাঙ্গন এর প্রতিটি ক্ষুদে শিল্পীই অসাধারণ অভিনয় করেছে। আবহ শ্রী ইন্দ্রম মৈত্র, ধ্বনি শ্রী কাঞ্চন বন্দোপাধ্যায়, আলো বাবলু রায়, রূপ সজ্জায় সৌরভ ভট্টাচার্য, মঞ্চ বিশ্বজিৎ দে এবং পরিচালনায় শ্রী অমিত পান্ডে। সমগ্র অনুষ্ঠানটির ভাবনা, পরিকল্পনা ও প্রয়োগে শ্রীমতি কাবেরী ঘোষাল। অসীম চক্রবর্তীর সুন্দর সঞ্চালনায়, কাবেরীর সুন্দর উপস্থাপনায় এবং অত্যন্ত সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনায় একটি সুন্দর সন্ধ্যার স্বাক্ষী হয়ে থাকলো শিশির মঞ্চের দর্শকরা। গার্ডেনরিচ কলাঙ্গন এবং কাবেরী যে বাচিক জগতে অনেক দূর পর্যন্ত তার জায়গা প্রতিষ্ঠিত করবে এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।