জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়, কোলকাতা, ভারত প্রতিনিধি: কলকাতার মধুসূদন মঞ্চে গত একুশে অক্টোবর পরিবেশিত হলো একটি মিশ্র অনু নাটক ‘ট্রাজেডি অফ ওথেলো’। এটি শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত ‘ওথেলো’ নাটকের অংশবিশেষ নিয়ে চারটি দৃশ্যে উপস্থাপিত হয়েছে। নাটকটি ইংরেজি ভাষাতে করা হয়েছে যাতে দৃশ্যগুলির সাথে শেক্সপিয়ারের নিজস্ব যে ভাষাশৈলী সেটা বজায় থাকে। নাটকটির আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটা শ্রুতি নাটকের পদ্ধতিতে শুরু করে ধীরে ধীরে মঞ্চ নাটকের আঙিনায় প্রবেশ করা। বিশেষ করে শেষ দৃশ্যে যেখানে ওথেলো দেসডেমোনাকে হত্যা করছে সেখানে পুরোপুরি মঞ্চ নাটকের আমেজ। এখানে যে ভাবনাটা কাজ করেছে তা হলো শ্রুতি নাটকের চেনা ছক থেকে বেরিয়ে আসা। উপস্থাপনার অভিনবত্বে এটি দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে।

অভিভূত উপস্থিত বিশিষ্ট কবি ও নাট্য ব্যাক্তিত্বরাও। এই দুরূহ কাজটি করেছেন আদিত্য দাস ও অচেনা মন্ডল যারা ছিলেন ওথেলো ও দেসডেমোনার চরিত্রে। আবহে ছিলেন সানি। সম্পাদনা ও পরিচালনায় আদিত্য দাস। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে কবি জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় ও কবি কেতকী প্রাসাদ রায় এর উজ্জ্বল উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। অন্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট সঞ্চালিকা মৌ গুহ। অতিথি শিল্পী হিসাবে ছিলেন বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী ও সঞ্চালিকা নন্দিনী লাহা যিনি পরিবেশন করলেন একটি মর্মস্পর্শী একক শ্রুতি ‘অর্পণ’। এছাড়াও রুপা, বলাকা ও অমিতাভ অভিনীত লস্ট পপি; শম্ভূ ও দেবিকা অভিনীত ঋণ এবং বর্ণালী ও আদিত্য অভিনীত ইকেবানা শ্রুতি নাটক উল্লেখযোগ্য। ভালো লাগলো মিতালি নাহারায় ও গৌরগোপাল গোস্বামীর একক কবিতা। একক নৃত্যে তোর্ষা মন্ডল অনবদ্য। দলগত অনুষ্ঠানে সপ্তবর্ণার নিবেদনে ছিল শিশুদের উদ্বোধনী সংগীত! নীলাঞ্জনার পরিচালনায় নৃত্যনাট্য অভিসার ও আবেশের পরিচালনায় সংগীতানুষ্ঠান লালপাহাড়ীর দেশে দর্শকদের মন জয় করে নেয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনায় অচেনা মন্ডল, বর্ণালী চৌধুরী ও আদিত্য দাস।