প্রবাস মেলা ডেস্ক: প্রবীণ সাংবাদিক ‘সাপ্তাহিক যুগধ্বনির’ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বেলাল-এর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার তার গ্রামের বাড়ি বরিশালে মিলাদ মাহফিল এবং কোরআন খতম এর আয়োজন করা হয়। তিনি স্ত্রী, ৬ ছেলে ও ২ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
প্রবীণ সাংবাদিক আবদুর রাজ্জাক বেলাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষাসৈনিকদের গুলি করার প্রতিবাদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নুরূল আমিনের সঙ্গ ত্যাগ করেন। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বঙ্গবন্ধু ও মওলানা ভাসানীকে স্বরচিত সংগীত শোনালে সার্বক্ষনিক কর্মী হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৫৫ সালের ২৭ মে লালদীঘির ময়দানে গান গেয়ে মওলানা ভাসানীর জনসভায় শেরে বাংলার কেএসপির লাঠিয়াল বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত বন্ধ করে সুনাম কুড়ান।
তিনি ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত দৈনিক ইত্তেফাক-এ কর্মরত ছিলেন। তার সম্পাদিত ‘মাসিক যুগধ্বনি’-কে সাপ্তাহিক আকারে প্রকাশ করেন ১৯৭৪ সালে।
তার লেখা বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- সংগীত পুস্তিকা: ‘সিপাহ-সালার সংগীত’ বরিশাল (১৯৫১), ‘আওয়ামী গণসংগীত’ ঢাকা (১৯৫৫), ‘এগিয়ে চলার ঢাকা’ (১৯৬১)। সঙ্কলন: যুগধ্বনি, ঢাকা (১৯৬২), শেরেবাংলা, ঢাকা (১৯৬২), জননায়ক ফজলুল হক, ঢাকা (১৯৬৩), পাকিস্তান ও সোহরাওয়ার্দী, ঢাকা (১৯৬৩)।
স্বজনরা জানান, আজীবন দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে গেছেন আবদুর রাজ্জাক বেলাল। কিন্তু বিনিময়ে আওয়ামীলীগের কাছ থেকে কোনরকম সাহায্য-সহযোগিতা চাননি।
তার বড় মেয়ে রারজানা সুলতানা আক্ষেপ করে বলেন, আমরা বাবাকে ফিরে পাব না, তবে তার পত্রিকাটি যেন প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে একটি নিউজ প্রকাশিত হয় ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। যে কারণে যুগধ্বনি পত্রিকাটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় পরিণত হয়। আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ায় আর কিছুই করতে পারিনি। তাই আমরা প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করছি।
উল্লেখ্য, বর্তমানে রারজানা সুলতানা দৈনিক মানবকন্ঠে কর্মরত আছেন।