জাহাঙ্গীর আলম শিকদার, লন্ডন, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: ফেনী সমিতি ইউকে-কে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে নাম ও লোগো ব্যবহারে বিভ্রান্তি, নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং সাংগঠনিক বৈধতা ঘিরে সংগঠনের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পূর্ব লন্ডনে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে উভয় পক্ষ।
গত ১৪ মে (মঙ্গলবার) হোয়াইট চ্যাপেলের মক্কা গ্রিল রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফেনী সমিতি ইউকের আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, বর্তমান কমিটি একটি বৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সম্মেলনে প্রধান আহ্বায়ক বিপ্লব হোসেন মাহি ও সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, ‘আমরাই বর্তমানে বৈধ কমিটি। যারা এখন সমিতির নাম ও চ্যারিটি নম্বর ব্যবহার করছেন, তারা মূল সংগঠন থেকে বের হয়ে অন্যায়ভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।’
এর পরদিন, ১৫ মে (বুধবার) হোয়াইট চ্যাপেলের মাইদা গ্রিল রেস্টুরেন্টে অপর পক্ষ এক প্রতিবাদ সংবাদ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে। তারা দাবি করেন, ফেনী সমিতি ইউকে একটি নিবন্ধিত দাতব্য সংগঠন, যা ২০০৫ সালের ১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যের চ্যারিটি কমিশনে রেজিস্ট্রেশন পায়। ওই পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, তারাই সংগঠনের মূল প্রতিষ্ঠাতা এবং চ্যারিটি কমিশনের নথিতেও তাঁদের নামই ফাউন্ডার ট্রাস্টি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে, এই পক্ষের অভিযোগ, কুতুব উদ্দিন হাজারী ঘোষিত কমিটি সম্পূর্ণ অবৈধ। তারা বলেন, ‘সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কুতুব উদ্দিন হাজারীর এমন কমিটি ঘোষণার কোনো এখতিয়ার নেই।’
তবে দুই পক্ষই জানিয়েছেন, তাঁরা সংগঠনের বিভক্তি চান না। বরং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে ফেনী সমিতি ইউকে-কে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। তাঁদের মতে, এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সম্মিলিত ঐক্যমত ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ।