রনি মোহাম্মদ, লিসবন, পর্তুগাল প্রতিনিধি:
করোনাভাইরাসের কারনে পর্তুগাল সরকারের চলমান আইনে রাজধনী লিসবনে ১০ জনের বেশী এক সাথে জনসমাগমের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় ঈদুল-ফিতরের মতই এবার ঈদুল আজহাও প্রবাসীরা উদযাপন করেছে অনেকটা সাদা মাটা আর বিবর্ণ রংহীন ভাবে।পর্তুগালে জরুরী অবস্থা তুলে নিলেও সরকার কতৃক দুর্যোগপূর্ণ রাষ্ট্র ঘোষণা করায় লিসবনে ১০ জন এবং বাকী শহর গুলোতে ২০ জনের বেশি এক সাথে জনসমাগমের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেক জায়গায় ঈদের জামাত করার অনুমতির পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে কিছু কিছু জায়গায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কতৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় ঈদুল আযহার নামাজের আয়োজন করা হয়।
পর্তুগালের সর্ব বৃহৎ ঈদের জামাত বাংলাদেশি অধ্যুষিত লিসবনের মাতৃ মনিজ পার্কের মাঠে অনুষ্ঠিত না হওয়াই বেশীরভাগ প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকটাই সাদামাটাভাবে ঘরে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১০ জন করে ঈদের নামায ঈদ উদাযাপন করছে। সেই সাথে করোনা মহামারি সঙ্কট ও পর্তুগালের পরবর্তী অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে বেশিরভাগ প্রবাসী অর্থনৈতিক ও কর্মহীন হয়ে পড়ায় অন্যান্য বছরের মতো এবারের ঈদুল আযহায় ব্যস্ততাও দেখা যাইনি বাংলাদেশি অধ্যুষিত দোকান গুলোতে। পর্তুগাল সরকারে তথ্যমতে জুন মাসে পর্তুগালে বেকারত্বের সংখ্যা ৩৬.৪ শতাংশ এবং বেসরকারী হিসেব মতে প্রায় ৪০ শতাংশ। যার ফলে বেকারত্বের দুর্দশার ও এই অনিশ্চিত অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন এখানকর অনেক প্রবাসী।
এদিকে, পর্তুগালের বন্দর নগরী ও বাণিজ্যিক শহর পোর্তোর বাঙ্গালি অধ্যুষিত রুয়া দে লউরেইরোর হযরত হামজা (রঃ) মসজিদে সকাল ৭.৩০ ও ৮.৩০ মিনিটে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সরকারের অনুমতি নিয়ে ঈদুল আজহার দুইটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ কমিনিটি পোর্তোর নেতৃবৃন্দসহ ঈদের জামাতে পোর্তোয় বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রবাসী বাংলাদেশীগন অংশ নেন।পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশি সহ দেশে অবস্থিত প্রবাসীদের পরিবারের সদস্য সহ সকলকে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পর্তুগালের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রুহুল আলম সিদ্দিকী।