প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ছিল নারী জাগরণের বিশিষ্ট নেত্রী, রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ‘নূরজাহান মুরশিদ’-এর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী। এ উপলক্ষে ‘উত্তরসূরী: নূরজাহান-সারওয়ার মুরশিদ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ বিকাল ৪.৩০ মিনিটে বাংলা একাডেমির ‘কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষ’তে ‘নারীস্বর’ দ্বিতীয় কিস্তিতে একটি বিশেষ বক্তৃতার আয়োজন করছে। এবারের বিষয়: গতি, প্রগতি ও নারীর প্রতিবাদের ভাষা।
বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ড. শাহমান মৈশান। এছাড়া নূরজাহান মুরশিদের লেখা থেকে পাঠ করবেন নিশাত জাহান রানা। জুলাই আন্দোলন নিয়ে কথা বলবেন শিক্ষার্থী ও এক্টিভিস্ট প্রাপ্তি তাপসী। আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ড. মোরশেদ শফিউল হাসান ও কাজী সুফিয়া আখতার।
বিশেষ বক্তৃতায় সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক ড. পারভীন হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন মুরশিদ।
উল্লেখ্য, নূরজাহান মুরশিদ ১৯২৪ সালের ২৪ মে মুর্শিদাবাদ জেলার তারানগরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে সাংবাদিক, শিক্ষক ও নারী জাগরণের অগ্রদূত। তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে তৎকালীন পাকিস্তানে আইয়ুবের সামরিক শাসনবিরোধী রাজনৈতিক অভিযাত্রায়, সংগ্রামে, আন্দোলনে এবং মুক্তিযুদ্ধে ছিলেন সক্রিয়ভাবে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন লড়াই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে যখন ছিল স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিক প্রয়োজন, তখন ভারতের লোক ও রাজ্যসভার যৌথ অধিবেশনে মুজিবনগর সরকারের বিশেষ দূত এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে ঐতিহাসিক এক ভাষণ প্রদান করেছিলেন, ফলে ভারতের স্বীকৃতি এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা ত্বরান্বিত হয়েছিল। এতে তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা তাকে নিরুদ্দেশ অবস্থাতেই ১৪ বছরের কারাদন্ডে দণ্ডিত করে।
অন্যদিকে তিনি ১৯৫৪ সালে ‘যুক্তফ্রন্টের’ প্রার্থী হিসেবে নারায়ণগঞ্জ আসন থেকে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য পদে জয়লাভ করেন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৮-৬৯ সালের গণ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন এবং নির্বাচন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
নূরজাহান মুরশিদ বাংলাদেশ মহিলা সমিতির প্রথম সভাপতি ছিলেন। ‘একাল’ নামে তিনি একটি বাংলা সাময়িকী চালু করেছিলেন। প্রকাশনাটি দীর্ঘস্থায়ী ছিল না তবে ‘এদেশ-একাল’ নামে সাময়িকীটির নতুনভাবে প্রকাশ বেশ কয়েক বছর অব্যাহত ছিল। তিনি ২০০৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।