প্রবাস মেলা ডেস্ক: তিস্তা-গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি ইস্যুতে দিল্লী-কলকাতার প্রশাসনিক লড়াই যেন থামছেই না। কেন্দ্র থেকে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার পরেও পানি চুক্তি ইস্যুতে রাজ্যকে না জানিয়ে চুক্তি করার অভিযোগে অনড় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার (০৮ জুলাই) রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্নে এক সংবাদ সম্মেলন, মমতা অভিযোগ করেন রাজ্যকে না জানিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে ফারাক্কা চুক্তি পুনর্নবীকরণ করতে চাইছে, একইসঙ্গে তিস্তার পানিও দিতে চাচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর যে কথা হলো, তা আমাদের কাউকে জানানো হলো না। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। কেন্দ্র বলছে তিস্তার পানি দিয়ে দেব। তিস্তায় কি পানি আছে যে দেবে? তাহলে তো আমাদের রাজ্যের উত্তরবঙ্গের মানুষ খাবার পানি পাবে না।’
এ সময় সিকিমে তিস্তা নদীর উপর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিষয় টেনে মমতা বলেন ‘সিকিমের ওখানে তিস্তার উপরে ১৪ টা হাইড্রো পাওয়ার (জলবিদ্যুৎ) করেছে, তাতে সব পানি টেনে নিয়েছে। যখন সিকিম ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প করলো, তখন কেন্দ্রীয় সরকারের সযত্ন হওয়া উচিত ছিল। ওরা জানে যে সিকিম বা অরুনাচল সীমান্ত কতটা ভয়ানক আমাদের দেশের জন্য। কিন্তু সরকারের কোন মনিটরিং সিস্টেম নেই। আমরা বারবার বিষয়টি জানিয়েছে, কিন্তু কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।’
গঙ্গার ভাঙ্গন রোধে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে মমতা বলেন ‘গঙ্গার ভাঙ্গন রোধের বিষয়টি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দেখার কথা। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছর ধরে তারা দেখছে না। গঙ্গার ভাঙ্গন রোধে তারা এক পয়সাও খরচ করেনি। ফারাক্কাতেও ড্রেজিং করেনি। গঙ্গার ভাঙ্গন রোধে কেন্দ্রীয় সরকার যে অর্থ দেয়ার কথা ছিল আজ পর্যন্ত সেই অর্থ দেয়নি। উপরন্তু আমাদের না জানিয়ে বলছে ফারাক্কা চুক্তি পুনর্নবীকরণ করবে।’
এ দিনের সংবাদ সম্মেলন থেকে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের উপর দিয়ে বয়ে চলা আত্রেয়ী নদীর প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন ‘আত্রেয়ী নদীর উপরে যে বাঁধটা দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ এবং চীন মিলে সেটা করার সময় আমাদেরকে জানানো হয়নি। আর তাতে কিন্তু অনেক অনেক মানুষ খাবার পানি পাচ্ছে না। সেখানে পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। আমি এই বিষয়টি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে অনেকবার বলেছি। তাছাড়া পূর্বের ভারত-বাংলাদেশ যে বৈঠকগুলোতে আমাকে ডাকা হতো, সেখানে আমি বারবার এই বিষয়টি উত্থাপন করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’
প্রসঙ্গত, গত ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরে দুই দেশের মধ্যে ১০ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ওইদিন দিল্লিতে হায়দরাবাদ হাউজে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দেন তিস্তা উন্নয়ন প্রকল্প সমীক্ষার ব্যাপারে ভারতের একটি কারিগরি দল খুব শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, ২০২৬ সালের গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হবে। তার পুনর্নবীকরণের জন্য উভয় দেশের কারিগরি বিশেষজ্ঞরা আলোচনা শুরু করবেন।
পরে এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে আঙুল তুলে মমতা অভিযোগ করেন, বাংলাকে না জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এইসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যদিও ভারত সরকারের তরফে মমতার সেই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়।