প্রেস বিজ্ঞপ্তি: ডা. জাফরুল্লাহর প্রতি সম্মান জানানোয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আমরা গণস্বাস্থ্য পরিবার অত্যন্ত গভীর দুঃখভারাক্রান্ত হ্নদয়ে জানাচ্ছি যে, এই দেশের কৃতি সন্তান বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্যবিদ, মানবতার ফেরিওয়ালা, গরীবের ডাক্তার, সমাজসেবক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাষ্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী গত ১১ এপ্রিল ২০২৩ ইং তারিখ রাত ১১ টায় শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইলাইহি রাজিউন)। উনার মরদেহ বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। ১৩ এপ্রিল রোজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮ টায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মরদেহ তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনে নেওয়া হয়। সেখানে ১ম জানাযা অনুষ্ঠিত হয় এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষ তাদের প্রিয় বড় ভাইকে শেষ বিদায় জানায়। ২য় জানাযা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে সকাল ৯ টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মরদেহ তার স্মৃতিবিজড়িত ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাস্পাসে প্রায় ১ ঘন্টা রাখা হয়, সেখানে চিকিৎসক এবং ছাত্র- ছাত্রীগণ তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সকাল ১০ টা ১৫ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মরদেহ আনা হয়। বেলা ১ টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। জনগণের শ্রদ্ধা শেষে তাঁকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়। বেলা ২ টা ৪০ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৩য় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৪ টায় ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। তারপর মরদেহ সাভার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নিয়ে যাওয়া হয়। ১৪ এপ্রিল রোজ শুক্ররার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র সাভারে পিএইচএ মাঠে সকাল ১০ টা হতে বেলা ১ টা পর্যন্ত সর্বসাধারনের শ্রদ্ধার জন্য মরদেহ রাখা হয়। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিবার ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান সমূহের স্টাফ, ছাত্র-ছাত্রীসহ, দেশের কৃতিমান রাজনীতিবীদ ও পেশাজীবীগণ এবং এলাকার সর্বস্তরের মানুষ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, তাদের প্রিয় বড় ভাইকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শুক্রবার বাদ জুম্মা বেলা ২ টা ৩০মিনিটে পিএইচএ মাঠে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মূল ফটকের পাশে সূচনা বিল্ডিং এর সামনে দাফন করা হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদ, প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বস্তরের জনগণ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর দেশের বিভিন্ন স্থানে গণস্বাস্থ্য পরিবার কর্তৃক মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশসহ বহির্বিশ্বে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী অগণিত ভক্ত ও শুভাকাক্ষীগণ তাঁর মৃত্যুর পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত শ্রদ্ধাভাজন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর (বড় ভাই এর) স্মরণে শোক সভা, টক শো এবং তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। জাতীয় দৈনিক পত্রিকা সমূহে তাঁর কর্মময় জীবন নিয়ে প্রথম পৃষ্ঠায় গুরুত্বসহকারে নিউজ প্রকাশ করেছেন, কলাম লিখেছেন, বক্তৃতা, বিবৃতি দিয়েছেন ও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন, দোয়া ও মাগফিরাত এবং আশীর্বাদ করেছেন, তিনি যেন বেহেস্তবাসী হন (আমিন)। বীর মুক্তিযোদ্ধা, মানবতার ফেরিওয়ালা, গণমানুষের স্বাস্থ্যসেবার ত্রাতা, জাতির বিবেক এই শ্রেষ্ঠ বীরের প্রতি এমন যথাপোযুক্ত সম্মান প্রদর্শন সত্যিই বিরল। আমরা দেখেছি যে, দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে আপামর জনসাধারণ, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, আমলা, কুটনীতিবিদ, বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্থপতি, চিকিৎসক, শিল্পী, সাংবাদিক, আইনজীবী শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় নেতা, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, নারী-পুরুষ, কিশোর-কিশোরী ও শিশুরাও নির্বিশেষে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী’র মৃত্যু উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন। আপনাদের এই সহমর্মিতা আমাদেরকে গভীরভাবে আপ্লুত করেছে। মরহুম ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর (বড় ভাইয়ের) প্রতি আপনাদের এমন আন্তরিক শ্রদ্ধা, অফুরন্ত ভালবাসা, অকৃত্রিম দোয়া ও প্রার্থনার জন্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ড এর সদস্যবৃন্দসহ সকল অংগ প্রতিষ্ঠান সমুহের সকল স্তরের কর্মী, কর্মকর্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী এবং গণস্বাস্থ্যের সাথে সম্পৃক্ত সকলের পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনাদের এই সহমর্মীতা আগামীতে চলার পথে
গণস্বাস্থ্য পরিবারকে অফুরুন্ত শক্তি ও অনুপ্রেরণা যোগাবে।
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী’র প্রতি সম্মান জানানোয় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কৃতজ্ঞতা