প্রবাস মেলা ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আগ্রহ থাকলেও দেশে আসতে পারছেন না বলে নিজেই খোলাসা করেছেন জানিয়েছেন বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ভোটাধিকারের জন্য দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লড়াই ও সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া সাবেক সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী। নিজের এই সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে। তবে কারণ হিসেবে জানা গেছে দেশে আসতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বারণ।
মুশফিকুল ফজল আনসারী জাতিসংঘের সদর দপ্তর, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট, পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউজে বাংলাদেশের একমাত্র সাংবাদিক হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করে মানুষের গণতান্ত্রিক লড়াই ও মানবাধিকার রক্ষার সংগ্রামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা মানুষদের একজন।
তবে বর্তমানে তিনি মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। জানা গেছে তিনি নৈমত্তিক ছুটির আবেদনের পরপরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধানদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশনা দেয়া হয়। আর এই নিয়মের আওতায় পড়েছেন গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য বিশ্ব মঞ্চে লড়ে যাওয়া সাবেক এই সাংবাদিক।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য স্বশরীরে দেশে উপস্থিত হতে ছুটির আবেদন করেছিলেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সেই আবেদন অনুমোদন করেননি। ফলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, “অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে আমি টানা দেড় দশক পথ হেঁটেছি। ইতিহাস সাক্ষী, গণতন্ত্র কখনো দয়া ভিক্ষা করে ফিরে আসে না; গণতন্ত্র ফিরে আসে মানুষের অদম্য সাহস আর ত্যাগের বিনিময়ে। অনেকে জানতে চাইছেন, ভোটের এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে আমি কি আসছি? এর উত্তর—না। পারছিনা ভোট উৎসবে শামিল হতে। স্বশরীরে ভোট দিবো বলে রেজিস্ট্রেশন করিনি পোস্টাল ব্যালটে। আমি চাইলে ছুটি-ছাটার তোয়াক্কা না করে ভোটের আগে হাজির হতে পারি এবং সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে আমার বন্ধুরা ভালোভাবেই অবগত। কিন্তু আমি কাউকে বিব্রত করতে চাই না এবং চাপের মুখেও ফেলতে চাই না।”
পোস্টে তিনি আরও লেখেন, “একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আজ বাংলাদেশের মানুষের রক্তে লেখা দাবি, আত্মার আর্তনাদ, ভবিষ্যতের শপথ। ভোটাধিকার শুধু একটি সাংবিধানিক শব্দ নয়, এটি একটি জাতির সম্মান, একটি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বের প্রশ্ন। ১২ ফেব্রুয়ারি’ ২৬, এই দিনের দিকে তাকিয়ে আছে একটি জাতির নিঃশ্বাস, একটি ইতিহাসের মোড়। জনগণের প্রত্যাশিত রায়ের মধ্য দিয়েই দায়িত্ব লাভ করবেন একজন ক্যারিশমাটিক, যোগ্যতম ও জননন্দিত নেতা, যাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে সম্মান, সক্ষমতা ও আত্মমর্যাদার নতুন পথে। দেশের মানুষের মতো আমিও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি সেই মুহূর্তটির জন্য।”