প্রবাস মেলা ডেস্ক: কানাডার আরও ৪১ কূটনীতিককে সরিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত। খালিস্তান আন্দোলনের নেতা হারদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন পদক্ষেপের জানাল নয়াদিল্লি।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) আল জাজিরা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকার কানাডাকে বলেছে, আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে কানাডাকে অবশ্যই তাদের ৪১ কূটনীতিককে দেশে ফিরিয়ে নিতে হবে।
কর্মকর্তাদের মতে, কূটনীতিকদের সরিয়ে নিতে কানাডা সরকারকে এক সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ১০ অক্টোবরের পরও যদি তারা থেকে যায় তাদের কূটনৈতিক হিসেবে পাওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে নেয়া হবে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন মতে, দিল্লির কানাডা দূতাবাসে যত কূটনীতিক রয়েছে তার দুই তৃতীয়াংশকেই সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই ৪১ জন কূটনীতিককে সরিয়ে নেয়া হলে দিল্লিতে কানাডার কূটনীতিকের সংখ্যা ২১ জনে নেমে আসবে।
চলতি বছরের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় গুরু নানক শিখ গুরুদুয়ারার বাইরে হারদীপকে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যার প্রায় চার মাস পর গত মাসে এ নিয়ে কানাডার পার্লামেন্টে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।
তিনি বলেন, এই হত্যায় ভারতের হাত রয়েছে। এটা পক্ষে ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ’ও পেয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে দেশটিতে অবস্থান করা ভারতীয় গোয়েন্দা স্টেশনের প্রধানকে বহিষ্কার করেন। এর মধ্যদিয়ে দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়।
হারদীপ হত্যা নিয়ে কানাডার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে ভারত। একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে আখ্যা দেয় দেশটি। সেই সঙ্গে ইটের বদলে পাটকেল হিসেবে কানাডার কূটনীতিক বহিষ্কার করে।
পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কারের পর নাগরিকদের ভারত ভ্রমণে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলে কানাডা। বিপরীতে ভারতও তাদের নাগরিকদের কানাডা ভ্রমণে সতর্কতা জারি করে।