নজরুল ইসলাম জহির, কুয়েত সিটি, কুয়েত থেকে: আমরা প্রবাসী বাংলাদেশী। কুয়েতের তপ্ত মরু প্রান্তরে বসবাস করছি। এখানে একে অপরের খুব কাছের বন্ধু ও স্বজন। “বাংলাদেশ কমিউনিটি” কুয়েত প্রায় তিন লক্ষ প্রবাসীর হৃদয়ের কথা বলে। কুয়েতে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের কৃষ্টি-কালচার বিনোদন, উৎসব ও প্রবাসীদের এই দেশের নিয়ম কানুন ও আইন শৃংখলায় সচেতন করা ও প্রবাসীদের সুখে দুঃখে পাশে থাকা এবং সহোযোগীতা করা বাংলাদেশ কমিউনিটির মূল উদ্দেশ্য।
কুয়েতে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের দ্বার প্রতিষ্ঠিত অনেক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সেচ্ছাসেবক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, ক্রীড়া সংগঠন বিদ্যমান আছে। কুয়েত ব্যবসায়ীদের বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল বাংলাদেশী পণ্য বিপননে ভাল ভূমিকা রাখছে। অঞ্চল ভিত্তিক সামাজিক ও উন্নয়নমূলক সমাজসেবা সংগঠনগুলিও প্রবাসে বসে দেশের উন্নয়নের ভাল কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ কোরআন প্রশিক্ষন কেন্দ্র কুয়েত ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নে এবং কোরআন প্রশিক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে প্রশংসিত হচ্ছে। এই সকল সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান গুলির সাথে সমন্বয় করে যাচ্ছে ”বাংলাদেশ কমিউনিটি কুয়েত। এছাড়া ও রয়েছে- বাংলাদেশ ফুটবল এসোসিয়েশন কুয়েত, বাংলাদেশ ক্রিকেট এসোসিয়েশন কুয়েত, বাংলাদেশ সাংবাদিক ইউনিয়ন, ফ্যামিলি ফোরাম, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব কুয়েত, ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া ফোরাম (আইএমএফ), জালালাবাদ সমাজকল্যান সংগঠন।
আমরা কুয়েতে বসবাসকারী বাংলাদেশী জনগণ কুয়েতের আইন কানুনের প্রতি যথেষ্ট সচেতন ও শ্রদ্ধাশীল। আমরা বাংলাদেশ কমিউনিটির মাধ্যমে কুয়েতে বাসবাসকারী বাংলাদেশীদের সর্বদা সহোযোগীতার পাশে থাকি। প্রবাসীদের মৃতদেহ বাংলাদেশে প্রেরণে বাংলাদেশ কমিউনিটি সর্বাত্তক সহোযোগীতা করে থাকে। রেমিটেন্স প্রেরণকারী যোদ্ধা হিসাবে মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে কুয়েত অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আছে এবং বৈধ পথে রেমিটেন্স প্রেরণে বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রবাসীদের সচেতন করে আসছে।
কুয়েতে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের অনেক গুলি সংগঠন থাকা সত্বেও এখানে বাংলাদেশী একটা স্কুল নেই। কুয়েতে জন্মগ্রহণ করা বাচ্চারা আমাদের দেশের মাতৃভাষা শিক্ষা অর্জন করতে পারছে না এবং আমাদের কৃষ্টি কালচার ও বাংলাদেশ সম্পর্কৃত ভাষা জ্ঞান হতে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা এ ব্যাপারে কুয়েতের মান্যবর রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে আমাদের সরকারকে কুয়েতে একটা বাংলাদেশী স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য জোড় দাবী জানাচ্ছি। যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটা স্কুল প্রতিষ্ঠা করে আমাদের ভবিষৎ প্রজন্মকে বাংলা ভাষা শিক্ষা দিয়ে শক্তিশালী জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে পারি।
পিঠা পার্বন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-খেলাধুলা, কবিতা সন্ধ্যা, ঈদ পুনঃমিলনী অনুষ্ঠান, বাৎসরিক বনভোজন, বসন্ত উৎসব ইত্যাদি উৎসব পালন ও আয়োজনে বাংলাদেশ কমিউনিটি কুয়েত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গত কিছুদিন আগে আকষ্মিক বন্যায় ফেনী নোয়াখালী ও কুমিল্লার বন্যা দূর্গতদের সাহায্যার্থে বাংলাদেশ কমিউনিটি অর্থ দিয়ে বন্যা দূর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এছাড়াও সারা বছরব্যাপী বিভিন্ন খেলাধুলা আয়োজনেও বাংলাদেশ কমিউনিটি সদা তৎপর থাকে। আয়োজনের মধ্যে আরো রয়েছেঃ- স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট, প্রবাসী ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট, শিশু কিশোর চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা, আর্ট কম্পিটিশন, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন, বাংলা নববর্ষ – এসো হে বৈশাখ ও পিঠা উৎসব, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগীতা।
এতো অর্জনের মধ্যেও প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে অনেক দুঃখ ও হতাশা বিরাজ করে। এর মধ্যে অন্যতম হল- যে সকল প্রবাসী শ্রমিক ভাইয়েরা লা-মানা ভিসায় ৭/৮ লাখ টাকা খরচ করে কুয়েতে আসে এবং যখন তাদের আকামা নবায়ন হয় না বা আকামা নবায়নে দীর্ঘায়িত হয় তখন তাদের মানষিক যন্ত্রনা বেড়ে যায়। দেশে আসার সময় যে ঋণ করে বিদেশ পাড়ি দিয়েছিল সেই ঋণ বা ধার করা টাকা ফেরৎ দেওয়ায় অপারগ হয়ে মানুষিক চাপের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে থাকে। ঐসকল ভাইদের এই ধরনের চাপে যাতে পরতে না হয় সে জন্য আমাদের দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে আরো বেশী সচেতন থাকতে হবে, যাতে করে প্রবাসে আসার সময় অতিরিক্ত টাকা যাতে দিতে না হয় এবং প্রবাসে আসার জন্য সহজ ও কম সময়ে যাতে তারা যাবতীয় কাজ কর্ম ও মেডিক্যাল সম্পন্ন করতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে।