প্রবাস মেলা ডেস্ক: নির্ধারিত কর্মঘণ্টা শেষ হবার পর বসের অযৌক্তিক ফোন কল এবং মেসেজ উপেক্ষা করার অধিকার দিয়ে আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। এজন্য কর্মীদের জরিমানা আর গুনতে হবে না। তবে আসন্ন এই নিয়ম অমান্য করলে নিয়োগকর্তাদের জন্য সম্ভাব্য জরিমানার বিধানও করা হবে নতুন আইনে। স্থানীয় সময় বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এ ঘোষণা দিয়েছেন। খবর রয়টার্স।
দেশটির পার্লামেন্টে উত্থাপিত বিলের অধীনে ফেডারেল সরকার প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক সম্পর্ক আইনে পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ‘দ্য রাইট টু ডিসকানেক্ট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অধিকার’ নিয়ে ভাবছে দেশটি। এ আইনটি কর্মীদের অধিকার রক্ষা করবে এবং দাপ্তরিক কাজ ও জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কর্মীদের ডিভাইস বন্ধ রাখার অধিকার দেয়া নিয়ে একই ধরনের আইন ফ্রান্স, স্পেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশেও প্রচলিত রয়েছে।
এর আগে বুধবার ক্ষমতাসীন মধ্য বামপন্থী লেবার পার্টির কর্মসংস্থানমন্ত্রী টনি বার্ক এক বিবৃতিতে বলেন, অধিকাংশ সিনেটরই এ আইনে সমর্থন জানান। এই বিধানটি কর্মঘণ্টার পরে কর্মীদের অযৌক্তিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার অধিকারের মাধ্যমে অবৈতনিক ওভারটাইম কাজ থেকে বিরত রাখে।
বুধবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা বলতে চাচ্ছি যে, কেউ যদি দিনে ২৪ ঘণ্টা কাজের বেতন না পান তবে তাকে ২৪ ঘণ্টা অনলাইনে না থাকার জন্য জরিমানাও করা যাবে না।’
চলতি সপ্তাহের শেষের দিকেই এ বিলটি পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিলটিতে অস্থায়ী থেকে স্থায়ী কাজের জন্য একটি সুস্পষ্ট বিধান এবং অস্থায়ী শ্রমিক এবং ট্রাক চালকদের জন্য ন্যূনতম বেতন কাঠামোর মতো অন্যান্য বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
তবে কিছু রাজনীতিবিদ, নিয়োগকর্তা এবং করপোরেট নেতা সতর্ক করে বলেছেন, কর্মীদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার অধিকারটি বেশি বাড়াবাড়ি। এটি নমনীয় কর্মপরিবেশের দিকে অগ্রসর হওয়া এবং প্রতিযোগিতাকে প্রভাবিত করবে বলে শঙ্কা করছেন তারা।